Home » কালীপুজোয় শব্দবাজির দাপট, প্রতিবাদ করে বৃদ্ধার জুটল প্রহার, ভবানীপুর থেকে বারাসাত -ছবি কি আদৌ পাল্টেছে?

কালীপুজোয় শব্দবাজির দাপট, প্রতিবাদ করে বৃদ্ধার জুটল প্রহার, ভবানীপুর থেকে বারাসাত -ছবি কি আদৌ পাল্টেছে?

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর : শব্দ বাজির দাপট কিছুতেই কমছে না। ভোগান্তির শিকার হয়ে প্রতিবাদ করলেই জুটছে মার।এবার খাস কলকাতার ভবানীপুর থেকে পাওয়া গেল শব্দ বাজির দাপটে বয়স্ক মানুষের ব্যতিব্যস্ত হওয়ার কথা আর একই সাথে পাওয়া গেল একটি ভয়ঙ্কর অভিযোগ যেখানে শব্দবাজির প্রতিবাদ করে প্রহৃতা হতে হয়েছে এক বৃদ্ধা মহিলাকে।  জানা গিয়েছে, এলাকায় শব্দবাজি দাপট চলছিল।এর প্রতিবাদ করেছিলেন এক মহিলা। ফলশ্রুতি তার বাড়িতে ঢুকে মারধর করে কয়েক জন যুবক। ভবানীপুর থেকে বারাসাত- শব্দবাজির দাপটের চিত্র সর্বত্র একই।

শব্দবাজি কেন্দ্রিক সবচেয়ে মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে খাস কলকাতায়। প্রতিবাদকারীর নিগৃহীতা হওয়ার ঘটনা ভবানীপুর থানা এলাকার ৪ বি আশুতোষ মুখার্জি রোডের । সেখানের বাসিন্দা প্রবীণা ও বয়স্কা অনুপমা চৌধুরীর অভিযোগ, কালীপুজোর দিন রাত দেড়টা নাগাদ পাড়ার কিছু ছেলে বাজি ফাটাচ্ছিল। অসুস্থ বৃদ্ধার অভিযোগ, তিনি মধ্যরাতে ওই বিপুল শব্দে বাজি ফাটানোর প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন। এমনকী বাজি থেকে তাঁর বাড়িতে আগুন লেগে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে ও তাঁর ভাইকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ বৃদ্ধার। এই বিষয়ে পুলিশের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কালীপুজো আর শব্দবাজি যেন একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে  জড়িয়ে আছে। আগে মাঝে মাঝে এই শব্দ দূষণের মাত্র ছাড়িয়ে যেত শব্দবাজির কল্যাণে । এর দুটো দিক ছিল। শিশু বয়স্ক ও পশুপাখিরা অসুস্থ হয়ে পড়তেন, মৃত্যুর কথাও শোনা গেছে। অন্যদিকটি প্রতিবাদ করতে গেলেই মারধর খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  পুলিশ প্রশাসন সর্বত্র শব্দবাজি নিয়ে বাড়াবাড়ির বিষয়ে কড়া নজরদারি দেওয়ার পরে শব্দ বাজির দাপট কিছুটা হলেও কমেছে। ভবানীপুর বা কলকাতা এমনকি কালীপুজোর শহর  বারাসাতেও এর অন্যথা ঘটে নি।  পুলিশ প্রশাসন শব্দ বাজি তে রাশ টানতে চেয়েছে বয়স্ক বা শিশুদের অসুবিধা কমাতে। কিন্তু তা যে শব্দ বাজির দাপট অঙ্কুরে বিনাশ করতে পারে নি তা মর্মে মর্মে টের পাওয়া যাচ্ছে।

বারাসাতে কালীপুজোর আগে সাংবাদিক সম্মেলনে বারাসাত জেলা পুলিশের সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেছিলেন, দু টন বাজি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। অথচ সেখানেও দাপট কমে নি বাজির। প্রবীণ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ধীমান চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, প্রচুর শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে শব্দ বাজির বিরূপ প্রভাবে। স্বাভাবিকভাবেই আইন রক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভবানীপুর থেকে বারাসাত সর্বত্র প্রশ্ন উঠছে, আইনরক্ষকরা কি কানে আঙ্গুল দিয়ে বসে আছেন?

About Post Author