সময় কলকাতা ডেস্কঃ রবিবার অর্থাৎ থেকে শুরু বাংলাদেশের সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব৷ আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। কার্তিক মাসে রাস উৎসবের পূন্য তিথিতে বঙ্গোপসাগরের চর আলোরকোল এলাকায় ভরা কোটালের জোয়ারের জলে স্নান করলে পাপমুক্ত হওয়া যায়৷ যুগ যুগ ধরে চলে আসা সনাতন ধর্মালম্বীদের এমন বিশ্বাস অনুযায়ী তারা এখানে যোগস্নান করতে আসেন৷ এদিন সন্ধ্যায় মন্দিরে সন্ধ্যা পূজা-আরতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। তবে জীব বৈচিত্র্যের উপর যাতে কোনও প্রভাব না পরে, সেজন্য এবারও পুণ্যার্থী ছাড়া অন্যদের সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে মেলার আয়োজনও থাকছে না এবছর।
প্রায় ১০০ বছর ধরে চলে আসা সনাতন ধর্মালম্বীদের এই উৎসব করোনার কারণে গত দুবছর তাঁর জৌলুশ হারিয়েছিল৷ করোনার চোখ রাঙানিতে ভক্ত আর দর্শনার্থীদের সুন্দরবনে ঢুকতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশকয়েক দফা নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছিল। তবে, বিধিনিষেধ শিথিল হতেই উৎসবে যেন প্রাণ ফিরে এসেছে৷ ভক্ত আর পূর্ন্যার্থীরা রওনা দিয়েছেন দুবলার চরের উদ্দেশ্যে৷

প্রতিবছর এই উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকেন৷ পুণ্যস্নানে নিরাপদে যাতায়াতে তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগ পাঁচটি পথ নির্ধারণ করেছে। এসব পথে বন বিভাগ, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানো যাবে না। প্রতিটি ট্রলারের গায়ে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকালীন সময়ে টোকেন ও টিকিট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। করোনার কাঁটা কাটিয়ে এবছর ফের জাঁকজমকভাবে আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশের সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব৷ আর এই রাস উৎসবকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ তুঙ্গে।


More Stories
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস : বাংলাদেশে পালাবদল ও বিতর্ক
বাংলাদেশে কট্টর পাক বিরোধী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের জয় কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?
বাংলাদেশ : বিএনপি জিতলে ভারতের কী সুবিধা হবে?