সময় কলকাতা ডেস্কঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। তারই মাঝে এবার রাজ্যের মন্ত্রীর নাম করে অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই বোনের কাছ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ তৃণমূলের জয় হিন্দ বাহিনীর জেলা সম্পাদকের বিরুদ্ধে। আর সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে পাল্টা অভিযোগকারী মহিলার উপরে চড়াও হয় ওই তৃণমূল নেতা। মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার হরিশ্চন্দ্রপুর সদরের ঘটনা। প্রকাশ্য দিবালাকে এক মহিলাকে মারধর করার ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এলাকাবাসী। প্রতিবাদে উপস্থিত এলাকাবাসী এসে গণধোলাই দেয় ওই তৃণমূল নেতাকে। ইতিমধ্যেই পুলিশ এসে আটক করেছে অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতাকে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা।
জানা গিয়েছে,হরিশ্চন্দ্রপুরের সংগঠন পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল গফফর পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। কিছু বছর আগেই মারা গিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী অঙ্গনওয়াড়িতে রান্নার সহায়িকার কাজ করেন। আব্দুলের দুই মেয়ে পুতুল নেশা পারভিন এবং হাজেরা খাতুন। অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের আগে এই দুই মেয়েকেই অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরি দেওয়ার নাম করে বেশ কয়েক দফায় মোট ১৬ লক্ষ টাকা নেন মালদহ জেলা তৃণমূলের জয় হিন্দ বাহিনীর জেলা সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এক বোনকে অঙ্গনওয়াড়ির সুপারভাইজার এবং অন্য বোনকে অঙ্গনওয়াড়ির শিক্ষিকার চাকরি করে দেবেন বলে প্রলোভন দেখিয়ে ছিলেন। এমনকী তিনি বলেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তার সুসম্পর্কও রয়েছে। পনেরো দিনের মধ্যে হয়ে যাবে চাকরি।অকারজত সেকারণেই চাকরির আশায় নিজেদের শেষ সম্বল জমি বেঁচে এবং সঞ্চিত কিছু অর্থ থেকে ওই নেতাকে টাকা দিয়েছিল দুই বোন। কিন্তু চাকরি তো দূরের কথা। দেড় বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও টাকা ফেরত পায়নি তারা। টাকা চাইতে গেলে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপরই শুক্রবার হরিশচন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের কাছে আসেন জাহাঙ্গীর আলম। খবর পেয়েই তার কাছে টাকার জন্য যান পুতুল নেশা পারভীন। কিন্তু অভিযোগ, সেই সময় তাকে গলা টিপে ধরে পেটে লাথি মারেন ওই তৃণমূল নেতা। প্রকাশ্য দিবালোকে এক মহিলাকে মারধর করতে দেখায় ছুটে আসে এলাকাবাসী। পাল্টা ওই নেতাকে গণপ্রহার দেয় এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে নিয়ে যায়।
ইতিমধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পুতুল নেশা পারভিন। তাদের দাবি, যেভাবেই হোক টাকা ফেরত দিতে হবে। একইসঙ্গে একজন মহিলার গায়ে হাত তোলার জন্য ওই নেতার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দুই বোন। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দাবি তিনি কোন টাকা নেননি। ওই মহিলা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতেন। এই সব কারণে প্রতিহিংসা বশ্যত তাকে ফাঁসাচ্ছেন। তৃণমূলের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরে গেছে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে তারা ওই দুই বনের পাশে আছে। দোষ করলে রাজনীতি না দেখে শাস্তি হবে।
এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গুপ্তা বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে। দলের নাম করে অনেকেই টাকা তুলছে। আমরা ওই দুই বোনের পাশে আছি। কোন রকম রাজনীতি না দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে এ বিষয়ে উত্তর মালদা বিজেপির সহ সভাপতি তাপস গুপ্তা বলেন, ‘তৃণমূলের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরে গেছে। যে টাকা তুলেছে তার পেছনে আরও কে আছে,তা খতিয়ে দেখতে হবে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী