সময় কলকাতা ডেস্কঃ পঞ্চায়েত নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, রাজ্য জুড়ে ততই যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অস্ত্র-বোমা ও বন্দুক উদ্ধারের ঘটনা। রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে উদ্ধার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র, সকেট বোমা। এবার ফের বোমা উদ্ধার হল মালদহে। বুধবার মানিকচক থানার রাজনগর এলাকায় ব্যাগ ভর্তি বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও তৎপরতার সাথে সিআইডি বোম স্কোয়াড বোমা গুলি নিষ্ক্রিয় করে করে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,বুধবার সকালে রাজনগর এলাকায় বাগানের গাছের নিচে দুটি পরিতক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ব্যাগের ভেতরে বোমা রয়েছে,এমনটাই অনুমান করেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি মানিকচক থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকায়। এমনকী জেলা সদর থেকে সিআইডি বোম স্কোয়াডের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সঙ্গে দমকল বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তৎপরতার সাথে সিআইডি বোম স্কোয়ার্ড ব্যাগ গুলি উদ্ধার করে খুলতেই বেরিয়ে আসে বোমা। তারপর সাবধানতা অবলম্বন করে শুরু হয় নিষ্ক্রিয় করার কাজ। দুটি ব্যাগে সাতটি কৌটো বোমা ছিল বলেই সূত্রের খবর।
অন্যদিকে,এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির সংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক গৌড় চন্দ্র মন্ডল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পঞ্চায়েত ভোটের আগে জেলা জুড়ে সন্ত্রাস করার লক্ষ্যে এই বোমা মজুদ করছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এই সমস্ত কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে পঞ্চায়েতে ছাপ্পা মারার লক্ষ্য রয়েছে তৃণমূলের। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই সন্ত্রাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ সঠিক রায় দেবে।
এদিকে,গোটা বিষয়ে মানিকচক ব্লক তৃণমূল সভাপতি ডঃ মাহফুজুর রহমান জানান, বিজেপির কাজই হল সমস্ত কিছুর জন্য তৃণমূলের দিকে আঙ্গুল তোলা। কারণ মানিকচক জুড়ে বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই সমস্ত কিছুতে তৃণমূলকে দোষারোপ করে তাদের কাজ। আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করব যারা এই সমস্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি হোক। মানিকচকের মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই দাবি জানান তিনি।

প্রসঙ্গত,পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই রাজ্যজুরে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা অব্যাহত। একের পর এক বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। অস্ত্র-বোমা ও বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন করানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের কাছে।


More Stories
বিধায়ক শঙ্করের হাত ধরে বারাসাতে সৃজন, কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা
হেলমেট নেই, পুলিশের হাতে হোমগার্ডের জরিমানা
মিলেছে”প্রমাণ “, বারাসাত কলেজে গোপনে মদ্যপান ও যৌনশিক্ষার আসর চলার অভিযোগ