সময় কলকাতা ডেস্ক,৪ জানুয়ারিঃ কেন্দ্রীয় স্তরে সাংগঠনিক ভাবে যতটা শক্ত ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে বিজেপি ততটাই দুর্বল বঙ্গে। ১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর আশাতীত ফল করলেও, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ক্রমশ সাংগঠনিক দুর্বলতা বঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সবচেয়ে চিন্তার বিষয়। ইসবার ২০০ পার স্লোগান মুখ থুবড়ে পড়ে বিধানসভা নির্বাচনে। ১০০ আসনও ঘরে তুলতে পারেনি বঙ্গ ব্রিগেড। তার উপর বিগত পুরসভা নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে গেরুয়া শিবির। সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বামেরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ত্রিমুখী অন্তর কলহ বিজেপির পুরসভা নির্বাচনে ফল খারাপের প্রধান কারণ। ৭৭ হাজারের অপর বুথ স্তরে এই মুহূর্তে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি নেই। সে ক্ষেত্রে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে বুথে বুথে বিজেপি প্রতিনিধি থাকবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।

পাশাপাশি দিলীপ-সুকান্ত-শুভেন্দু ত্রিফলা আধিপত্যে রাজ্য বিজেপির নিচু তলার কর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত। একদিকে যখন রাজনৈতিক কুকথা বলার পেটেন্ট এতদিন পর্যন্ত দিলীপ ঘোষের হাতে ছিল বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের পায়ের তলার জমি তৈরি করতে সেই কথাকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন এবার সুকান্ত মজুমদার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা দুর্নীতি ইস্যুতে বিডিও ও প্রশাসনের আধিকারিকদের ধোলাই দেওয়ার নিধান দিয়েছেন। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী চলছেন তার মত করে। তৃণমূল বিরোধিতা বলা ভালো মমতা অভিষেক বিরোধিতা তার ব্যক্তিগত স্তরে নেমে এসেছে। বিভিন্ন সভা মঞ্চ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ব্যক্তি আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে নিজেদের মতো করে ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও চিটফান্ড কাণ্ড থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কোন তদন্তের ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনো পর্যন্ত সেভাবে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তার উপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা এবং সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা জানুয়ারি মাসে বঙ্গ সফরে আসার কথা থাকলেও সেই সফল কর্মসূচি বাতিল হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পূর্ব ঘোষিত ১৬-১৭ জানুয়ারি বিজেপির কেন্দ্রীয় বৈঠক কর্মসূচি থাকার পরও কেন বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে ঠিক এই সময় শীর্ষ নেতৃত্বের রাজ্য সফর ঘোষণা করা হলো। তবে কি কেন্দ্র এবং রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।

সাংগঠনিক দুর্বলতা, গোষ্ঠী কোন্দল ঝাপিয়ে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফের একবার বিরোধী আসনে বসার সমতা বঙ্গ বিজেপি দেখাতে পারে কিনা এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি