সময় কলকাতা ডেস্ক,১১ জানুয়ারি: মাত্র কয়েক বছর আগের কথা। আপনাদের নিশ্চয়ই এক ঝকঝকে তরুণীর কথা মনে আছে। বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার রঘুনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিয়াপুর গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে, জঙ্গি যোগ সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল তানিয়া পারভিন নামক এক কলেজ ছাত্রীকে। তার সঙ্গে জঙ্গিযোগের প্রমাণ মেলায়, বর্তমানে সে এখনও জেল বন্ধি। তার গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে বরাবরই মেধাবী ছিল তানিয়া। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো নম্বর পেয়ে সে ভর্তি হয়ে যায় কলকাতার একটি নামকরা সরকারি কলেজে। তারপর তার সঙ্গে জঙ্গিযোগ সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত তিনদিন আগে হাওড়া থেকেও দুজন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল তারাও ছিল যথেষ্ট শিক্ষিত তাহলে এই জঙ্গি সংগঠনগুলি শিক্ষিত যুবক যুবতীদের টার্গেট করছে, কিসের লোভে বা কোন মগজ ধোলাইয়ে শিক্ষিত যুবক যুবতীরা তারা এই সংগঠনের দিকে এগোচ্ছে সেটা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে।
গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, পারভিনের বাবা আমিন মণ্ডল একজন রাজমিস্ত্রি, মা নুরনাহার বিবি স্বাস্থ্য দপ্তরে কাজ করতেন কিন্তু মেয়ে গ্রেফতার হওয়ার পরে লোকলজ্জায় ছেড়ে দিয়েছেন সেই কাজ । তানিয়ার ভাই শামীম মন্ডল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য জয়েন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেরকম একটি পরিবারে কি করে জঙ্গি তকমা লাগালো এটাই আশ্চর্যের বিষয়।
গ্রামবাসীদের কথায়, মেয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর, তার বাবা-মার সংসার চালাতে এখন যথেষ্ট কষ্ট করতে হচ্ছে। একদিকে লোকলজ্জা অন্যদিকে বার্ধক্যজনিত কারণ, ফলে তাদের এখন অসহায় অবস্থা। গ্রামবাসীরা চাইছেন দ্রুত তানিয়া পারভিন মুক্ত হয়ে যাক। পারভিনের মত, বা হাওড়ার দুই যুবকের মত আরও কত শিক্ষিত যুবক যুবতী এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বা এখনো হচ্ছে সেই তথ্য কিন্তু এখনও আমাদের অজানা।

সমস্ত শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা যদি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে, সেটা সমাজ ও দেশের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকর। তাই শিকড় খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা। কোন নেশায় তারা এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কেন শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছেড়ে, এই অন্ধকার জগতে পা বাড়াচ্ছে, তার উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।


More Stories
লিগের খেলা সুসম্পন্ন করে বারাসাত স্টেডিয়াম দিল ডার্বির বার্তা
নতুন দুই মামলায় আবার পুলিশ হেফাজতে অভিজিৎ দে ভৌমিক
কলাগাছের ভেলায় স্কুলের পথে পাড়ি, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, নির্বিকার প্রশাসন