সময় কলকাতা ডেস্ক,১১ জানুয়ারিঃ পাখির চোখ পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারই মধ্যে প্রশাসনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে রমরমিয়ে চলছে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। এই ঘটনায় অবশেষে খবরের জেরে নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন। বুধবারই হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকরা ঢালাই মোড়ে গিয়ে তদন্ত শুরু করলেন। তদন্তের ভিত্তিতে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। ভূমি সংস্কার দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট দেখে জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে। যদিও চাষীদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেওয়া হোক। নাহলে এই ভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে শেষ হয়ে যাবে চাষের জমি। জমি শেষ হয়ে গেলে মানুষ কি মাটি খাবে? এমনটাই প্রশ্ন চাষীদের।

প্রসঙ্গত,মালদায় মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারি নিয়ম না মেনেই চাষের জমি থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার ফলে কৃষিকাজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা চাষীদের। এই ভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে এক সময় চাষের জমি শেষ হয়ে যাবে। তখন মানুষ খাবে কী? এমনটাই প্রশ্ন ছিল চাষীদের। মাটি থেকে ইট তৈরি হয়ে নদীপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিহারে। যা বিক্রি হচ্ছে চড়াদামে। কিছুদিন আগেই বিহারে মাটি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। আর এবার পাচার হয়ে যাচ্ছে ইট। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন?। একদিকে তৃণমূল নেতারা বলছে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা যাবে না। অন্যদিকে তাদের মদতেই চলছে মাটি কাটার কাজ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত ভালুকা বাজার ঢালাই মোড়ের পাশে কয়েকদিন ধরেই দেদারে চলছে মাটি কাটার কাজ। ৩ ফিটের জায়গায় ৮- ৯ ফিট করে মাটি কাটা হচ্ছে। আর তারই পাশে হচ্ছে ভুট্টা চাষ। এই ভাবে অবাধে মাটি কাটা হলে কৃষি কাজের ক্ষতি হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা চাষীদের। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে কি ভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে মাটি কাটা হচ্ছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রের খবর,অবৈধভাবে মাটি কেটে সেই মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটা গুলোতে। সেই মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ইট। যে ইট গোবরা ঘাট দিয়ে নদী পথে ট্রলির পড় ট্রলি চলে যাচ্ছে বিহারে। বিক্রি হচ্ছে চড়াদামে। এই ভাবেই মাটি মাফিয়া এবং ইটভাটার মালিকরা মুনাফার লোভে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অবৈধ ভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে এর আগেও সরব হয়েছিলেন খোদ শাসকদলের বিধায়ক এবং রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল অবৈধ ভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে। বিডিও, ভূমি সংস্কারক আধিকারিক এবং আইসিকে নিয়ে গঠন হয়েছিল কমিটি। তারপরেও কি ভাবে মাটি কাটা চলছে? প্রশ্ন বিরোধীদের। তৃণমূল নেতাদের মদত ছাড়া এই কাজ হতে পারে না এমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে পাল্টা সাফাই তৃণমূলের।

এ প্রসঙ্গে উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, ‘যেখানে প্রশাসনিক ভাবে কমিটি গঠন হলো মাটি কাটা রুখতে। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী সরব হলেন। তারপরেও আবার কি ভাবে মাটি কাটার কাজ শুরু হল। তৃণমূলের মদত ছাড়া এটা কোনভাবেই সম্ভব না।’ অন্যদিকে এ বিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক ভূমি সংস্কার দপ্তরের রাজস্ব আধিকারিক অহিন মিত্র বলেন,’তদন্তের ভিত্তিতে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। রিপোর্টে বিস্তারিত সব কিছু লেখা আছে। সরকারি রিপোর্ট ওই ভাবে প্রকাশ্যে বলা যাবে না। রিপোর্ট দেখে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তিন সদস্যের প্রশাসনিক কমিটির কাছে সঠিক নথিপত্র দিয়ে অনুমোদন না নিয়ে কেউ মাটি কাটতে পারবে না।’

প্রসঙ্গত, শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাই নয়, সমগ্র মালদহ জেলা জুড়ে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা নিয়ে সরগরম হয়েছিল রাজনৈতিক মহল। এর আগেও মালদহের রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখার্জি সরব হয়েছিলেন জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সেইসময় করা বার্তা দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও। প্রশাসনিক ভাবেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও ফের অবৈধ ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসলো। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয় , সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।


More Stories
মিলেছে”প্রমাণ “, বারাসাত কলেজে গোপনে মদ্যপান ও যৌনশিক্ষার আসর চলার অভিযোগ
বাজেট ও ক্ষুদ্র চা-চাষীদের স্বপ্ন
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন