Home » লালনের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুশি নয় হাইকোর্ট

লালনের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুশি নয় হাইকোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জানুয়ারিঃ সিবিআই হেফাজতেই মৃত্যু হয়েছিল বগটুই কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের। কিন্তু লালন শেখের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুশি নয় কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার লালন শেখের মৃত্যু নিয়ে করা একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিল্লির এইমস ও কলকাতার এসএসকেএমে পাঠাতে হবে। দুই হাসপাতালই এই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে নিজেদের মতামত জানাবে।

বুধবার সেই মামলার শুনানিতেই লালন শেখের প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিল্লির এইমস ও কলকাতার এসএসকেএমে পাঠানোর কথা আদালত জানায়। সেই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রিপোর্ট খতিয়ে দেখবেন। এছাড়াও এদিন লালন শেখের স্ত্রী আদালতে হলফনামা দেন। জানা গিয়েছে, এই হলফনামার ভিত্তিতে সিবিআই ও রাজ্য সরকার হলফনামা দেবে। পাশাপাশি এদিন হাইকোর্ট জানায়, রাজ্য পুলিশ এই ঘটনায় সিবিআই আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তবে সে কথা সিবিআইকে ২৪ ঘণ্টা আগে জানতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ জানুয়ারি।


যদিও লালন শেখের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে লালন মামলার শুনানি চলাকালী, কেন্দ্রীয় আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, সিবিআই হেফাজতে কীভাবে লালন শেখের মৃত্যু হল? তারই তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মহেশ কুমার মিত্তালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে, লালন শেখের রহস্যমৃত্যুতে মানবাধিকার কমিশনের করা মামলার শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।


উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে বগটুই কাণ্ড নিয়ে রাজ্য তথা সারা দেশে শোরগোল পড়ে যায়৷ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২১ মার্চ রাতে৷ ওই রাতেই সাড়ে ৮ টা নাগাদ বোমা মেরে খুন করা হয় এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে৷ অভিযোগ, সেই খুনের বদলা নিতেই পালটা হামলা চালানো হয়৷ রাতের অন্ধকারে গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা৷ তাতে গ্রামের ১০ থেকে ১২ টি বাড়ি পুড়ে খাক হয়ে যায়৷ সেই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ন’জনের৷ বগটুই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসাবে ভাদু শেখের ছায়া সঙ্গী লালন শেখকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। ৮ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷ রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে আবেদন মত সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফাজতে থাকার সময়ে লালনের কীভাবে মৃত্যু হল তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

About Post Author