সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জানুয়ারিঃ কাঁথি টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় নয়া মোড়। এই দুর্নীতি মামলায় এবার তলব করা হল মূল অভিযোগকারিনী শান্তনু পাণ্ডার স্ত্রী কাকলি পাণ্ডাকে। কাকলির আগেই বাড়িতে গিয়ে তার বয়ান রেকর্ড করেছিল সিবিআই আধিকারিকরা। কাকলির সঙ্গে তলব করা হয়েছে শান্তুনুকেও। বৃহস্পতিবার নিজাম প্যালেসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় কাকলি পণ্ডা ও তাঁর স্বামীকে নিয়ে আসা হয়। এদিনই ফের তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে বলেই সূত্রের খবর। এদিকে, টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার ফের ডেকে পাঠানো হয়েছে কাঁথি থানার সাব ইন্সপেক্টর অনির্বান রায়কে। সূত্রের খবর, কাকলি পাণ্ডার সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে কাঁথি থানার সাব ইন্সপেক্টরকেও।

গত সপ্তাহেই কাঁথি পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু পাণ্ডার স্ত্রীর বয়ান নথিভুক্ত করেছিলেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপরই মঙ্গলবারই নিজামপ্যালেসে কাঁথি থানার এসআই ও এক কনস্টেবলকে তলব করেন সিবিআই আধিকারিকরা। এর আগে গত রবিবারই কাঁথি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাসকে তলব করেছিল সিবিআই। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলকাতায় সিবিআইয়ের সদর দফতর নিজাম প্যালেসে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সূত্রের খবর, কাঁথি পুরসভার টেন্ডার দুর্নীতির তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে তলব করেছিল সিবিআই। জানা গিয়েছে, অধিকারী ঘনিষ্ঠ কাঁথি পুরসভার ঠিকাদার রামচন্দ্র পন্ডার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে কাজ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের হয়। সেই মর্মে কাঁথি থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ইতিমধ্যে রামচন্দ্র পন্ডা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে অভিযোগকারী কাঁথি পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু পাণ্ডার স্ত্রী কাকলি পান্ডা জানান, তাঁকে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে অভিযোগপত্রে। ওই অভিযোগ পত্রে যা অভিযোগ রয়েছে, তাঁর অভিযোগ সেটি ছিল না। তারপরেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। সেইমর্মে কাঁথি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাসকে সিবিআই তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ কাঁথি পুরসভার ঠিকাদার রামচন্দ্র পাণ্ডাকে গ্রেফতার করেছিল কাঁথি থানার পুলিশ। তাঁর গ্রেফতারির জল হাইকোর্ট অবধি গড়ায়। রামচন্দ্র পাণ্ডাকে সঠিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে সিবিআইকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে রামচন্দ্র পাণ্ডার জামিনও মঞ্জুর করে আদালত। যদিও রামচন্দ্রের দাবি ছিল, তাঁকে গ্রেফতার করার পর চাপ দেওয়া হয়েছিল শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বয়ান দিতে।


More Stories
লিগের খেলা সুসম্পন্ন করে বারাসাত স্টেডিয়াম দিল ডার্বির বার্তা
নতুন দুই মামলায় আবার পুলিশ হেফাজতে অভিজিৎ দে ভৌমিক
বিচ্যুতি থাকবেই, ফুলপ্রুফ সিস্টেম বলে কিছু হয়না : শমীক ভট্টাচার্য