সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারিঃ মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে অবৈধ মাটি কাটা রুখতে এবার তৎপর প্রশাসন। ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কে রাস্তার কাজ চলছে। সূত্রের খবর, সেই কাজের জন্যই কনুয়ার গোপালপুর গ্রামের মাঠে প্রকাশ্যে নাম্বার বিহীন ট্রাক্টর এবং ট্রলি ব্যাবহার করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম। চাষের জমিতে জেসিবি দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খননের কাজ চলছে। যে রাস্তা দিয়ে মাটি নিয়ে যাচ্ছে ট্রাক্টর সেই রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে যাচ্ছে। তিন ফিট মাটি কাটার কথা সেখানে মাটি কাটা হচ্ছে প্রায় দশ ফিট। খবর পেয়েই শুক্রবার মহকুমা শাসক এবং মহাকুমা ভূমি রাজস্ব আধিকারিক এসে জেসিবি এবং ট্রাক্টর আটক করে। এমনকী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে খবর, যে পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ মাটি কেটে নিচ্ছে তারা। মাটি সরবরাহকারী ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিক ফখরুদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি অবৈধ মাটি কাটার কথা স্বীকার করে নেন তিনি।
উল্লেখ্য,মালদায় মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারি নিয়ম না মেনেই চাষের জমি থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার ফলে কৃষিকাজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা চাষীদের। এই ভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে এক সময় চাষের জমি শেষ হয়ে যাবে। তখন মানুষ খাবে কী? এমনটাই প্রশ্ন ছিল চাষীদের। মাটি থেকে ইট তৈরি হয়ে নদীপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিহারে। যা বিক্রি হচ্ছে চড়াদামে। কিছুদিন আগেই বিহারে মাটি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। আর এবার পাচার হয়ে যাচ্ছে ইট। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। একদিকে তৃণমূল নেতারা বলছে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা যাবে না। অন্যদিকে তাদের মদতেই চলছে মাটি কাটার কাজ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত ভালুকা বাজার ঢালাই মোড়ের পাশে কয়েকদিন ধরেই দেদারে চলছে মাটি কাটার কাজ। ৩ ফিটের জায়গায় ৮- ৯ ফিট করে মাটি কাটা হচ্ছে। আর তারই পাশে হচ্ছে ভুট্টা চাষ। এই ভাবে অবাধে মাটি কাটা হলে কৃষি কাজের ক্ষতি হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা চাষীদের।এই ঘটনায় জেরে বুধবারই হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকরা ঢালাই মোড়ে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের ভিত্তিতে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল জেলা প্রশাসনকে। ভূমি সংস্কার দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট দেখে জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে।
প্রসঙ্গত, শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাই নয়, সমগ্র মালদা জেলা জুড়ে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা নিয়ে সরগরম হয়েছিল রাজনৈতিক মহল। এর আগেও মালদার রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখার্জি সরব হয়েছিলেন জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সেইসময় করা বার্তা দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও। প্রশাসনিক ভাবেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও ফের অবৈধ ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসলো। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয়, সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।


More Stories
লিগের খেলা সুসম্পন্ন করে বারাসাত স্টেডিয়াম দিল ডার্বির বার্তা
নতুন দুই মামলায় আবার পুলিশ হেফাজতে অভিজিৎ দে ভৌমিক
কলাগাছের ভেলায় স্কুলের পথে পাড়ি, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, নির্বিকার প্রশাসন