ময় কলকাতা ডেস্ক,১৬ জানুয়ারিঃ ঘন কুয়াশায় ঢাকা শহর। সে কারণেই কচুবেড়িয়ায় বন্ধ রয়েছে লঞ্চ ভেসেল পরিষেবা। আর তাই গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান সেরে ফেরার পথে বিপাকে অগণিত ভক্ত। ফিরতে না পেরে বাফার জোনে আটকে রয়েছেন কয়েক লাখ দর্শনার্থী।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় পূণ্যস্নান। রাত জুড়েই পূণ্যার্থীরা পূণ্যলোভের আশায় সাগরসঙ্গমে স্নান করেন। তবে এবছর রাতে এই স্নানযোগ থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। বারবার মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছিল সতর্কবার্তা। বিশেষ করে ২ নং ঘাটটি বিপজ্জনক হওয়ায় সেখানে আসা পূণ্যার্থীদের অন্য ঘাটে স্নান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, ঘাটে যাতে কোনও পূণ্যার্থী না নামতে পারেন, সেই দিকটি নিশ্চিত করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অন্যান্য ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলো এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা মোতায়েন ছিল। রাত ১২ টার পর থেকেই জোয়ারের জল বাড়তে শুরু করে। সেসময় এই লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাটাই চ্যালেঞ্জ ছিল প্রশাসনের কাছে। তবে কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছড়াই সুষ্ঠভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পেরেছে প্রশাসন, সেজন্য খুশি পূণ্যার্থীরাও। এবছর মেলার ভিড় প্রায় ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এই ভিড় আরও বাড়তে পারে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সশরীরে সাগরে এসেছেন। এছাড়াও প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ই-স্নান করেছেন। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই মেলা প্রকৃত অর্থেই মহামিলনমেলা হয়ে উঠেছে এবার।

প্রতিবছরই মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় জমে এই গঙ্গাসাগর মেলায়। অন্যদিকে, গঙ্গাসাগর মেলায় এবছরই প্রথমবার হরিদ্বার-বারাণসীর আদলে গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয়েছে। এবার থেকে গঙ্গাসাগর মেলায় এই বছর থেকে চালু হয়েছে কিউ আর এবং বারবোড বেসড ওয়াটারপ্রুফ হাতের ব্যান্ড। যার মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। মেলায় আগত সমস্ত প্রবীণ এবং শিশুদের বিনামূল্যে কিউ আর রিস্টব্যান্ড বাফার জোন থেকে দেওয়া হয়েছে। মূলত কোনও মানুষ যাতে মেলায় এসে নিখোঁজ না হয়ে যান, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারের গঙ্গাসাগরের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হল সাগর আরতি। আর কুম্ভস্নান শুরু হচ্ছে ১৪ তারিখ। পুণ্যস্নানের সময় ২৪ ঘণ্টা। গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে ২২৫০টি সরকারি বাস, ৫০০ বেসরকারি বাস চালু থাকবে। ৩২টি ভেসেল, ১০০টি লঞ্চ চলবে। ১০টি ফায়ার স্টেশন, ২৫টি দমকলের ইঞ্জিন মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকেও কড়া নজরদারি চলেছে।’

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর সাগর মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। তার মধ্যে অবাঙালি পূণ্যার্থীদের সংখ্যা বেশিই থাকে। তবে গত দুবছর অতিমারির কারণে বিধিনিষেধ থাকায় সাগর মেলায় তেমন ভক্ত সমাগম হয়নি। চলতি বছরে বা আগামী বছরে আর করোনাবিধি না থাকায় সেই সংখ্যার অনেকটাই বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এবারে সাগর মেলায় বিগত দুই বছরের মতনই করোনা প্রতিরোধের যথাযথ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও যাতে পুরোপুরি রোধ করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকেল সংস্থান রাখা হয়েছে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী