সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারিঃ পাখির চোখ পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারই মধ্যে প্রশাসনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে রমরমিয়ে চলছে বালি ও মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নদী থেকে দেদার বালি এবং মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী রাজ্যে পাচার করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত খিদিরপুর এলাকার বাঙালি পাড়া দিয়ে বয়ে গেছে ফুলহার নদী। শীতকালে জল অনেকটাই শুকিয়ে যায় এই নদীর। স্থানীয়দের অভিযোগ,শুকিয়ে যাওয়া নদীর চড় প্রশাসনিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে অবৈধ ভাবে বালি এবং মাটি কাটার কাজ। ফুলহার নদীর অপর তীরেই রয়েছে বিহার। মাটি এবং বালি কেটে ট্রাক্টরে করে রাতারাতি তা পাচার করে দেওয়া হচ্ছে বিহারে। বিহারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সেই বালি ও মাটি। এদিকে সমগ্র ঘটনায় তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের মদতেই হচ্ছে এই কাজ। অবৈধ ভাবে মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য গত মাসেই বিডিও, আইসি এবং ভূমি সংস্কার আধিকারিক কে নিয়ে গঠন হয়েছিল ৩ সদস্যের কমিটি। সেই কমিটির ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন?

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রশাসনের কাছে ডিসিআর কেটে বালি এবং মাটি কাটার কাজ চলছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী নদীর মাটি কাটা যায় না। সেক্ষেত্রে কিভাবে ডিসিআর দিল প্রশাসন? তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিকরা এই প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। যদিও তৃণমূলের দাবি, এই ধরনের ঘটনায় কোন রাজনীতি দেখা হবে না। অবৈধ ভাবে নদী থেকে মাটি কাটা হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকেরা কটাক্ষ করে বলেন,এই রাজ্যে বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই এই ধরনের ইস্যুকে আঁকড়ে ধরে জায়গা করতে চাইছে।

এ বিষয়ে মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জম্মু রহমান বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাজনীতির কিছু নেই। যারা অবৈধ ভাবে মাটি কাটবে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনো কোন অবৈধ কাজকে সমর্থন করে না। বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই বাংলায়। তাই এই ধরনের ইসুকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর বৃথা চেষ্টা করছে।’ অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে বিজেপির মালদা জেলা কমিটির সদস্য কিষাণ কেডিয়া বলেন, এই রাজ্যের প্রশাসন এবং তৃণমূল এক। এক্ষেত্রে তৃণমূলের মদত রয়েছে বলেই প্রশাসন কিছু করতে পারছে না। মাটি মাফিয়াদের পেছনে রয়েছে তৃণমূল নেতাদের হাত। শাসকদলের মদত ছাড়া কেউ এত সাহস পাবে না।’

প্রসঙ্গত, শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাই নয়, সমগ্র মালদহ জেলা জুড়ে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। বারবার অবৈধ ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। শাসকদল এবং প্রশাসন মেনেও নিয়েছে সে কথা। মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেকবার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। এই ভাবে নদী থেকে মাটি এবং বালি কাটলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। বর্ষার সময় ফের ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হতে পারে এলাকাবাসী। তাই স্থানীয়দের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।


More Stories
লজে পরকীয়া-ব্যাভিচার, হাতেনাতে পাকড়াও সন্তানের জননী ও প্রেমিকপুরুষ
ইন্দাসের ঘটনায় ককরোচের প্রশাসনকে ডেডলাইন
কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে নৃশংসভাবে খু*ন নাকাশিপাড়ায়