সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ ফেব্রুয়ারিঃ ফের বিপাকে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। এবার তাঁর বিরুদ্ধে নয়া মামলা দায়ের করতে চলেছে সিবিআই। দিল্লির উপ-রাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনার কাছে সিবিআই এই মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়েছিল। ইতিমধ্যেই সিবিআই-এর এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে দিল্লির উপ-রাজ্যপাল। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির আম আদমি সরকারের অধীনে ‘ফিডব্যাক ইউনিট’ নামে একটি সেল আছে। দিল্লি সরকারের অধীনে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজকর্মের দিকে নজর রাখা এবং কোনরকম অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখাই এই সেলের কাজ। ২০১৬ সাল থেকে কাজ শুরু করা ওই ইউনিটের গঠন নিয়েই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিবিআইয়ের দাবি,এই সেলের কাজকর্ম নিয়মিত দেখাশোনা করতেন মণীশ সিসোদিয়া এবং তিনিই ঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন কাদের উপর নজরদারি চালাতে হবে। ২০১৫-র শেষের দিকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ফিডব্যাক ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সিবিআইয়ের অভিযোগ, দিল্লির রাজ্য সরকারের এমন গোয়েন্দা নজরদারির আইনি ক্ষমতা নেই। দিল্লিতে পুলিশ এবং গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি সব কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ করে।

এদিকে,আবগারি দুর্নীতি মামলায় ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবারই তাঁকে সিবিআইয়ের সদর দফতরে তলব করা হয়েছিল। শনিবার সকালে মণীশ সিসোদিয়া নিজেই সিবিআইয়ের তলবের কথা টুইট করে জানান। টুইটে তিনি লেখেন,‘সিবিআই রবিবার আমায় ডেকেছে। সিবিআই,ইডি আমার বাড়ি তল্লাশি করেছে, ব্যাঙ্কের লকার তল্লাশি করেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই মেলেনি। আমি কেবলমাত্র দিল্লির শিশুদের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। ওরা আমাকে থামাতে চায়। আগেও আমি তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা করব।’ এর আগে মদ কেলেঙ্কারি মামালায় মণীশ সিসোদিয়ার বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই।

উল্লেখ্য,গত বছরই দিল্লির আবগারি নীতি নিয়ে বিতর্কের দানা বেঁধেছিল। এরপরই দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনার নির্দেশেই দিল্লির আবগারি নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইডি ও সিবিআই। কারণ, আবগারী বা মদ বিক্রি নীতিতে মূল অভিযোগই ছিল বেআইনিভাবে পথে অর্থ উপার্জন। তিন মাস আগেই সিবিআই এই মামলার চার্জশিটও পেশ করে।সিবিআইয়ের ওই চার্জ শিটে মণীশ সিসোদিয়া সহ ১৫ জনের নাম ছিল। ১১ পাতার ওই চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্টের নথি পাওয়া গেছে বলে দাবি সিবিআইয়ের। মনীশের বিরুদ্ধে সিবিআই যে ধারাগুলিতে মামলা দায়ের করেছিল, তারমধ্যে দুটি ধারা ইডির প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট-এর অধীনে তদন্তের অধীনে পড়ে। সেগুলি হল, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি এবং ৪৭৭। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৭ নম্বর ধারার মামলা দায়ের হয়েছে।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের