পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,২২ ফেব্রুয়ারী :
রূপকথার কি অবসান হয়? ফুরিয়েও না ফুরোনো যে রূপকথার জন্ম দিয়েছেন সানিয়া মির্জা তার কি অবসান হতে পারে? কিছুদিন আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন টেনিস সুন্দরী ও তরুণ প্রজন্মের হার্ট থ্রব তথা ভারতের সর্বকালের সফল মহিলা টেনিস তারকা সনিয়া মির্জা।দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণময় কেরিয়ার শেষে এবার থেকে পাকাপাকি প্রাক্তণীদের দলে চলে গেলেন টেনিস-সুন্দরী। ৪৭ টি টেনিস শিরোপা এবং ৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম যাঁর পকেটে, তাঁকে জীবনের শেষ টেনিস প্রতিযোগিতায় দেখতে হল পরাজয়ের মুখ। দুবাইয়ের ডিউটি ফ্রি টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে সানিয়া ও ম্যাডিসম কিজের জুটি হেরে গেলেন কুদেরমেতোভা-সামসোনোভা জুটির কাছে। ম্যাচের ফলাফল ৪-৬, ০-৬।গত মাসে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নিজের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে নজর কাড়া ফল করেছিলেন ভারতের এই টেনিস সুন্দরী। চূড়ান্ত সাফল্য না পেলেও তিনি রোহন বোপান্নাকে সঙ্গে নিয়ে মিক্সড ডাবলসে রানার্সআপ ও হয়েছিলেন। একসময় থামতে হয়, থামলেনও সানিয়া তবে অসামান্য নজির গড়েই বিদায় নিচ্ছেন টেনিস সুন্দরী। তিনি ৪৩ টি ডাবলস টুর্নামেন্ট, তিনটি মিক্সড ডাবলস টুর্নামেন্ট এবং একটি সিঙ্গলস টুর্নামেন্ট খেতাব জিতেছেন। বর্ণময় এক রূপকথার পরাজয়ের মধ্যেই অবসান হলেও তাঁর মুকুট অজস্র এমন পালকে সাজানো যা অমলিন ও জমকালো থেকে যাবে। টেনিস সাৰ্কিটের ৩৬ বছর বয়সী গ্ল্যামারাস গার্লকে মিস করবেন তাঁর ভক্তকুল।

সানিয়া মির্জা বহু সাফল্য দেখেছেন ওঠানামায় ঘেরা টেনিস জীবনে।দেশের হয়ে একাধিক পদক এনেছেন। একসময়ে টেনিসে সিঙ্গলসে তাঁর বিশ্বে ৱ্যাঙ্কিং হয়েছিল ২৭। ডাবলস টেনিসে ৱ্যাঙ্কিং হয়েছিল ১।তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ সিঙ্গলসে সেভাবে না ঘটলেও ডাবলস বা মিক্সড ডাবলসে তাঁর সাফল্য ছিল চোখ ধাঁধানো। ২০১৩ সালে সিঙ্গলস থেকে অবসর নিলেও এরপরে ডাবলসে বিশেষ ভাবে নজর দেন সানিয়া মির্জা। টেনিস ডাবলসে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে খ্যাতি ও সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছান তিনি । ইদানীং চোট আঘাত যে তাঁকে ভোগাচ্ছিল তা জানিয়েছেন সানিয়া।পাশাপাশি,চিরকালই আকর্ষণীয়া ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে খ্যাত সানিয়াকে নিয়ে চৰ্চা থেকেই যাবে। তাঁর টেনিস এবং তাঁর ব্যক্তিগত প্রেমগাঁথা আলোচনার রসদ যোগাবে মানুষকে।

২০১০ সালে ওয়াঘা সীমান্ত ছাড়িয়ে সানিয়ার বিয়ে হয় পাকিস্তানি ক্রিকেট তারকা শোয়েব মালিকের সঙ্গে । দুই আন্তর্জাতিক ভাবে বৈরিভাবাপন্ন প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এরকম নজির বিরলতম। তাঁদের বিবাহিত জীবন নিয়ে কোনো বিতর্কও ছিল না কিছুদিন আগে পর্যন্ত । একটি পুত্র সন্তান রয়েছে তাঁদের। ইশহান মির্জা মালিক যে তাঁর জীবনের ধ্যানজ্ঞান হয়ে উঠেছেন তাও জানিয়েছেন সানিয়া মির্জা। এবারও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গেছিলেন সানিয়া মির্জা।
সানিয়া মির্জার বিবাহ-পূর্ব জীবনের রোমান্টিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রচুর। একসময় সানিয়া মির্জার সাথে বলিউডের ফিল্মষ্টার শাহিদ কাপুরের “প্রেমের কাহিনী” শোরগোল ফেলে দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট দুই জগতেই।শোনা যায়, কারিনা কাপুরের সঙ্গে ব্রেকআপ হতেই অন্তরঙ্গ হয়ে হাত ধরেছিলেন সনিয়া মির্জা। ২০০৯ সালে দুজনেরই কমন ফ্রেন্ডের আয়োজনে একটি পার্টিতে আলাপ হয়েছিল দুই নক্ষত্রের। এরপরেই ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। ঘনঘন বিভিন্ন জায়গায় দেখা যেতে থাকে তাঁদের। তথাপি নিজেদের সম্পর্কের কথা কেউ খোলাখুলি ঘোষণা করেন নি।

হায়দ্রাবাদের মেয়ে সানিয়া অনেকটাই আবিষ্ট করে রেখেছিলেন শাহিদকে তাঁদের স্বল্পকালীন সম্পর্কে।সম্পর্ক এতটাই গভীরতা পেয়েছিল যে “কামিনে” মুভির শুটিং করতে সিনেমা নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজকে অনুরোধ করেন নায়ক ।তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণ হিসেবে তেলেগু সিনেমা জগতের নায়ককে ধরা হয়। পরবর্তীতে মীরা রাজপূতকে জীবনসঙ্গী বাছেন শাহিদ কাপুর। আর সানিয়া মির্জা- শোয়েব মালিকের দাম্পত্য জীবন তারকাটার গন্ডি ছাড়িয়ে গড়েছিল দৃষ্টান্ত।

বর্তমানে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটলের গুঞ্জন রয়েছে। সম্পর্কও এখন একেবারেই ঠিকঠাক চলছে না টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা আর ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের মধ্যে। দুজনে আপাত বিচ্ছিন্ন থাকছেন বলেও শোনা যাচ্ছে । এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতেও আর এই দম্পতির একসঙ্গে ছবি দেখতে পাওয়া যায় না । আর এই সম্পর্ক ভাঙার পিছনে বারবার উঠে এসেছে পাক সিনেমা অভিনেত্রী আয়েশা ওমরের নাম। তবে আয়েশা ওমর এই ক্ষেত্রে নাম না করেই ভারতের গণমাধ্যমকে দোষারোপ করেছেন। ফলে অবসর নিলেও মাঠের বাইরে টেনিস সুন্দরী চর্চায় থেকেই যাচ্ছেন। তাঁর রেকর্ড তাঁর টেনিস কোর্টের সাফল্যের কথা বলবে এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের রূপকথা লোকমুখে থাকবেই। রূপকথার অবসান হয় না।।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?