Home » দেউলিয়া পাকিস্তানের হাসপাতালে জীবনদায়ী ওষুধের আকাল

দেউলিয়া পাকিস্তানের হাসপাতালে জীবনদায়ী ওষুধের আকাল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারি: দেশবাসীর পেটে টান পড়েছিল আগেই, এবার অমিল জীবনদায়ী ওষুধ। কার্যত দেউলিয়া পাকিস্তানে এখন শুধুই হাহাকার। অর্থনৈতিক সংকটে ভোগা পাকিস্তানের হাসপাতালগুলিতে নেই জীবনদায়ী ওষুধ, অন্যান্য ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, পাকিস্তানে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার তলানিতে ঠেকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং দেশে ওষুধ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে ওষুধের জোগানে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ফলে পাকিস্তানের হাসপাতালগুলিতে করুণ চিত্র সামনে আসছে।

পাক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, প্যানাডল, ইনসুলিন, ব্রুফেন, ডিসপ্রিন, ক্যালপল, টেগ্রাল, নিমেসুলাইড, হেপামার্জ, বুসকোপান এবং রিভোট্রিলের মতো ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। জীবনদায়ী গুরুত্বপূর্ণ ওষুধতো এমনিতেই অমিল। পাকিস্তানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির দাবি, ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না বিদেশী মুদ্রার অভাবে।

কারণ পাকিস্তান ওষুধ তৈরির ৯৫ শতাংশ কাঁচামালই আমদানি করে ভারত ও চিন সহ একাধিক দেশ থেকে। কিন্তু আর্থিক সংকটে ভোগা পাকিস্তানে বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার তলানিতে। ডলারের ঘাটতির জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারকদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কাঁচামাল করাচি বন্দরে আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওষুধ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বেশিরভাগ সংস্থা। জানা যাচ্ছে, এই সমস্যার সমাধান করে দ্রুত কাঁচামাল আমদানি করা না হলে আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ওষুধের জোগান শূন্য হবে।

পাকিস্তান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (পিএমএ) পরিস্থিতিকে বিপর্যয়ে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখতে পাক সরকারের হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে। কিন্তু পাক সরকার বিশ্বব্যাঙ্ক-সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সংগঠনের কাছে যে ঋণ চেয়েছিল তা পাওয়ার আশা কার্যত নেই। চিন পাকিস্তানকে ঋণ দেবে বললেও সেই টাকা এখনও পায়নি পাকিস্তান। ফলে চিন্তায় পাক নাগরিকরা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না হলে, আগামী একমাসের মধ্যেই পাকিস্তানের হাসপাতালগুলিতে অস্ত্রপচার বন্ধ হয়ে যাবে। ক্যানসার বা জটিল রোগের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে।

About Post Author