সময় কলকাতা ডেস্ক,২৮ ফেব্রুয়ারিঃ গ্রেফতারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। আবগারি দুর্নীতি মামলায় রবিবারই দিল্লির আবগারি মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সোমবার দিল্লির সিবিআই কোর্ট তাঁকে ৪ মার্চ পর্যন্ত তদন্তকারীদের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। এরপরই তাঁর আইনজীবী মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের এজলাসে জামিনের আবেদন করেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সিসোদিয়ার জামিনের আবেদন নিয়ে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী সিসোদিয়ার আইনজীবীরা দিল্লি হাইকোর্টে যেতে পারতেন। তাঁরা কেন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এলেন? এদিন বিকাল সাড়ে তিনটে নাগাদ এই প্রশ্নে শুনানি করা হবে। তারপর আদালত জামিনের আবেদন শুনবে।

এদিকে,সোমবারই মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেফতারিকে ‘নোংরা রাজনীতি’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, ‘মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করার মতো কিছুই পায়নি সিবিআই। সিবিআই অফিসাররা সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করার পক্ষপাতী ছিলেন না। কিন্তু শীর্ষ বিজেপি নেতাদের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রীকে।’ যদিও এদিন কোনও নেতার নাম মুখে আনেননি তিনি। তবে, বিজেপির বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল এমন কথা বলছেন।

উল্লেখ্য,রবিবার আবগারি দুর্নীতিকাণ্ডে টানা ৮ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর আবগারি মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সূত্রের খবর, বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তরে এড়িয়ে যাওয়ার কারণে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা দুটো নাগাদ দিল্লির আদালতে তোলা হয় তাঁকে। তবে আপের আশঙ্কা, মণীশকে জেরা করার সূত্র ধরে এরপর মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকেও নোটিস পাঠাবে সিবিআই, ইডি। কারণ যে অভিযোগে সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটি আদতে মন্ত্রিসভার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।

দিল্লির যে মদনীতিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং সেই সূত্রে আপের তহবিলে মোটা টাকা জমা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেটি অনুমোদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বয়ং। শুধু তাই নয়, ওই নীতি তৈরির প্রক্রিয়াতেও যুক্ত ছিলেন কেজরিওয়াল। কেজরিওয়ালের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টকেও ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি, সিবিআই। প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনিও ঘন ঘন মোবাইল সেট এবং সিম বদল করেছেন। সিবিআই, ইডির আইনজীবীরা আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যবসায়ীদের অন্যায়ভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নীতি কেন তৈরি করা হয়েছিল? এবার সেই প্রশ্নের সদুত্তর পেতে মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


More Stories
আক্রান্ত হলেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
রেহাই মিলল না সুজিত বসুর
ভারতে তেলের দাম কি কমছে?