সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ ফেব্রুয়ারি: দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান বা সৌধের নাম বদলের একটা হিড়িক তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে স্পষ্টত ক্ষুব্ধ দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দেশের বিভিন্ন শহর এবং ঐতিহাসিক স্থানের নাম বদলে করতে নয়া কমিশন গঠনের আবেদন করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন এক বিজেপি নেতা। সোমবার এই আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি কেএম জোসেফ এবং বিভি নাগারত্নের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, ‘‘অতীতকে খুঁড়বেন না। এমন কাজ করবেন না যা বৈষম্য তৈরি করবে। দেশকে উত্তপ্ত করবেন না”।

বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে দাবি করেছিলেন, দেশের একাধিক শহর এবং ঐতিহাসিক স্থানের নামকরণ করা হয়েছে ‘আক্রমণকারী’দের নামে। তাই ওই জায়গাগুলির নাম পরিবর্তন করা হোক। শহর এবং ঐতিহাসিক স্থানের ‘আসল নাম’ খুঁজে বার করা হোক। এই মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। হিন্দু শুধু একটা ধর্ম নয়। এটা একটা জীবনধারা। হিন্দু ধর্মে কোনও গোঁড়ামি নেই”। পাশাপাশি বিচারপতিদের মন্তব্য, দেশের ইতিহাস কখনই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয় ধরাতে পারে না। এরপরই জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, এর আগে ভারতের বেশ কয়েকটি শহর ও ঐতিহাসিক স্থানের নাম পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যেমন এলাহাবাদের নাম পাল্টে হয়েছে প্রয়াগরাজ। মুঘলসরাই স্টেশনের নাম পাল্টে হয়েছে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন। আবার সম্প্রতি, দিল্লির মুঘল গার্ডেনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘অমৃত উদ্যান’। আবার দিল্লির ঐতিহাসিক রাজপথের নাম পাল্টে “কর্তব্য পথ” করেছে মোদি সরকার। এই অবহে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
আক্রান্ত হলেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
ভারতে তেলের দাম কি কমছে?
কলকাতা-হিমাচল সরাসরি ট্রেন চালু, বাংলা পর্যটকদের জন্য নতুন সুবিধা