সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ মার্চ: রাজ্য ক্রমাগত চোখ রাঙাচ্ছে অ্যাডিনোভাইরাস। প্রতিদিনই শিশুমৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দাবি করলেন, ‘রাজ্যে অ্যাডিনোভাইরাসে ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে কোমর্বিডিটির কারণে’। পাশাপাশি তিনি রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করেন, অযথা ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, আতঙ্কিত হবেন না।

জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুদের ভিড় বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অ্যাডিনোভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় এই ঘটনা। কিন্তু বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে বললেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও শিশুর মৃত্যুই আমাদের কাছে দুঃখজনক। তবে প্রত্যেক বছরই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শিশুরা ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। তাঁর আরও দাবি, যে শিশুদের ওজন স্বাভাবিকের থেকে তুলনায় কম এবং অপুষ্টিতে ভুগছে তাঁদের ভাইরাসঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে একদল মানুষ ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। যদিও এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত এই ধরনের অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ২১৩। এর মধ্যে মাত্র ১২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন বা শ্বাসযন্ত্রে মারাত্মক রকমের সংক্রমণের কারণে’। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ১২টি কেসের মধ্যে ২টি অ্যাডিনোভাইরাস। বাকি ১০টা হচ্ছে কোমর্বিডিটির কারণে। নানা রকম উপসর্গ রয়েছে। কোনওটা পালমোনারি হেমারেজ, ওজন কম। অধিকাংশই এগুলো। ভয় পাওয়ার কারণ নেই’।

পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ভাইরাসঘটিত রোগের প্রকোপ সামলাতে নানান ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁর দাবি, ‘৫ হাজার বেড তৈরি রাখা হয়েছে। রাজ্যে ৬০০ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রস্তুত রয়েছেন’। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, করোনা একটা আতঙ্ক। এর পর থেকে যে কোনও কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। টাইফয়েড, হাম, পক্সের মতো রোগ তো এই সময় হয়ই। তাই আমাদের আরও যত্নশীল হতে হবে। বাচ্চাদের এই সময় বাড়ির বাইরে বের না করানোই ভালো।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বারাসাতে নিপায় আক্রান্ত নার্সের মৃত্যু
সফল সিজারিয়ান, উৎসবের আগমনে উদযাপন ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে