Home » আইএসএল সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জিতল বেঙ্গালুরু, চাপে মুম্বই সিটি এফসি

আইএসএল সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জিতল বেঙ্গালুরু, চাপে মুম্বই সিটি এফসি

সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক, ৮ মার্চ: মঙ্গলবার দোলের দিন সন্ধ্যায় আইএসএল সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বই সিটি এফসি এবং বেঙ্গালুরু এফসি। এদিন ম্যাচের একমাত্র গোল করলেন সুনীল ছেত্রী। ফলে ফাইনালের পথে একধাপ এগোল বেঙ্গালুরু এফসি। চাপে পড়ে গেল মুম্বই সিটি এফসি।

এবারের আইএসএলে একটা সময় মনে হয়েছিল দেশী-বিদেশী নামীদামী খেলোয়াড়কে নিয়ে গড়া বেঙ্গালুরু এফ সি হয়তো গ্ৰুপ লিগেই মুখ থুবড়ে পড়বে। ক্রমেই গ্রূপে নিচের দিকে নেমে চলেছিল তারা। ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-২ গোলে হেরে যাওয়ার পরে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করেছিলেন এবারের আইএসএলে আশা শেষ সুনীল ছেত্রীদের। কিন্তু সকলকে অবাক করে তারপর থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বেঙ্গালুরু এফসি। রয় কৃষ্ণা, সনদেশ ঝিঙ্গন, সুনীল ছেত্রী, হাভিরা জ্বলে উঠতে শুরু করেন।  কলকাতায় এসে এটিকে মোহনবাগানকেও হারিয়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত গ্ৰুপ লিগের শেষ ছয়ে পৌঁছে যায় তাঁরা।

তবে শেষ ছয় থেকে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই মোটেই সহজ হয়নি তাদের। কেরালা ব্লাস্টার্সকে সংযোজিত সময়ের খেলায় তারা হারালেও গোলটি হওয়ার পরে দলকে মাঠ থেকে তুলে নেন কেরালার কোচ। সুনীল ছেত্রী সেট পিস মুভমেন্টে কাউকে সুযোগ না দিয়ে আচমকা ফ্রিকিক নিয়ে গোল করে যান। এতেই বাড়ে বিতর্ক। বিতর্কের রেশ মাঠের বাইরে তাড়া করে বেড়িয়েছে মূলত সুনীল ছেত্রীকে। এবার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল মুম্বই সিটি এফসি। ক্রেগ স্টুয়ার্ট, আমেদ জাহু রা তাদের শক্তির প্রমান দিয়ে চলেছিলেন আইএসএলের প্রথম থেকেই। গ্ৰুপ লিগের শেষ দুটি ম্যাচে হারলেও তারা তার আগে পর্যন্ত ছিল অপরাজিত। দু একটি ম্যাচে ড্র করলেও প্রায় প্রতি ম্যাচে জয়কে অভ্যাসে পরিণত করেছিল মুম্বই সিটি এফসির ফুটবলাররা।

মঙ্গলবার নিজেদের ঘরের মাঠে মুম্বই সিটি এফসি মঙ্গলবার শুরু থেকেই ঝড় তোলে। ক্রেগ স্টুয়ার্টরা খেলার প্রথম ১৫ মিনিটে বেঙ্গালুরু এফ সির গোলমুখ একাধিক বার খুলে ফেলেন। ক্রেগ স্টুয়ার্টকে এদিন অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছিল। কিন্তু সুনীল ছেত্রীর মনে অন্য কিছু ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতিপ্রকৃতি পাল্টায় এবং কাউন্টার অ্যাটাকে উঠতে থাকতে বেঙ্গালুরু। ৭৮ মিনিটের মাথায় কর্ণার থেকে অরক্ষিত ও সুযোগ সন্ধানী সুনীল ছেত্রী গোল করে আরেকবার প্রমাণ করেন কেন তিনি ভারতের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিনি এও বোঝান ফুটবল মাঠে খেলোয়াড় সুনীল ছেত্রীর ডেডিকেশন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।

বাকি সময় মুম্বই সিটি এফ সি বিপক্ষ গোলমুখে হানা দিলেও সুরক্ষিত থেকে যায় বেঙ্গালুরু গোলদুর্গ।বরং শেষ মুহূর্তে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে বেঙ্গালুরু দুটি গোল প্রায় করে ফেলেছিল।মুম্বাই গোলরক্ষক লাচেনপা ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ন না হলে গোল ব্যবধান বাড়তে পারত। রবিবার সেকেন্ড লেগের আগে বেঙ্গালুরু এফসি যে কিছুটা মজবুত জায়গায় পৌঁছে গেল গেল বলাই বাহুল্য।

About Post Author