Home » হরিদেবপুরের মৃত তরুণী ‘এসকর্ট সার্ভিসে’ জড়িত ছিলেন! কিন্তু কেন খুন হতে হল তাঁকে?

হরিদেবপুরের মৃত তরুণী ‘এসকর্ট সার্ভিসে’ জড়িত ছিলেন! কিন্তু কেন খুন হতে হল তাঁকে?

সময় কলাকাতা ডেস্ক, ৮ মার্চ: মঙ্গলবার অর্থাৎ দোলের দিন সকালে হরিদেবপুরে রাস্তার ধারে পাওয়া গিয়েছিল এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর মৃতদেহ। খবর পেয়েই হরিদেবপুর থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার রাতেই ওই তরুণীর পরিচয় উদ্ধার করে তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে মৃত তরুণীর নাম ডালিয়া চক্রবর্তী, তাঁর বাড়ি নরেন্দ্রপুর এলাকায়। এরপর তদন্ত যত এগিয়েছে ততই রহস্য বাড়ছে। পাশাপাশি উঠে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডালিয়াকে খুন করেই রাস্তায় ধারে ফেলে গিয়েছিল দুস্কৃতীরা। তদন্তে এও জানা যাচ্ছে ওই তরুণী সম্প্রতি দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এমনকি এসকর্ট সার্ভিসের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন। বুধবারই হরিদেবপুর থানার পুলিশ অরুনাভ পাত্র (৩৭) এবং অর্জুন দাস (৫১) নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ডালিয়া এসকর্ট সার্ভিসে জড়িয়ে যাওয়ার পর রীতিমতো কাঁচা টাকা কামাতে শুরু করেন। সে সময় ডালিয়ার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল অরুনাভর। সে একটি সিকিউরিটি এজেন্সিতে কাজ করতো। পরে অরুনাভ পাত্র নামে ওই ব্যক্তি ডালিয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল। এবং দেহ ব্যবসার টাকা পয়সার ভাগ বাঁটোয়ারার নিয়ে দুজনের গোলমাল বাঁধে। এর জেরেই খুন হতে হয়েছে ডালিয়াকে। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অরুনাভ বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও মৃত ডালিয়ার স্বামী রাহুল চক্রবর্তী স্ত্রীর খুনে অরুনাভ-সহ আরও কয়েকজনকে সন্দেহ প্রকাশ করে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই মতোই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এবং অরুনাভ এবং অর্জুন নামে আরও একজনকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

ডালিয়ার স্বামী রাহুলের দাবি, গত সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ডালিয়া। এরপর রাত পর্যন্ত কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। তবে ডালিয়ার পাঠানো লাইভ লোকেশনে তাঁর স্বামী শেষবারের মতো ডালিয়ার অবস্থান জানতে পেরেছিলেন। আর পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবারই ডালিয়ার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হরিদেবপুরের একটি ফ্ল্যাটে ডালিয়া দেখা করতে গিয়েছিল অরুণাভর সঙ্গে। সেখানেই টাকাপয়সা নিয়ে ঝামেলা বাঁধে তাঁদের। এরপরই অরুনাভ শ্বাসরোধ করেই খুন করে ডালিয়াকে। পরে দেহ লোপাটের উদ্দেশ্যে অর্জুন দাসকে ডেকে নেয় সে। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে, এই খুনের পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা সেটাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

About Post Author