Home » শান্তনু-ঘনিষ্ঠ প্রোমোটারের অফিস থেকে উদ্ধার ৪০০টি ওএমআর শিট

শান্তনু-ঘনিষ্ঠ প্রোমোটারের অফিস থেকে উদ্ধার ৪০০টি ওএমআর শিট

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ মার্চঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার যেন পরতে পরতে রহস্য। তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। শনিবার টানা ১৬ ঘণ্টা তল্লাশির পর অবশেষে ইডির হাতে আটক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার অয়ন শীল। শান্তনু ঘনিষ্ঠ এই প্রোমোটারকে শনিবার ৯টা নাগাদ আটক করে ইডি। এবার অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করল ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন  ফের লাইনচ্যুত আমতা-হাওড়া লোকাল


সূত্রের খবর,প্রোমোটার অয়নের একই আবাসনে ফ্ল্যাট রয়েছে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়েরও৷ যদিও নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে আগেই ইডি স্ক্যানারে নাম ছিল এই অয়ন শীলের। শনিবার তল্লাশির জন্য শান্তনুর ফ্ল্যাটের তালা ভাঙতে ডাকা হয় চাবিওয়ালা ববি পালকে। অন্যদিকে, শনিবার সকাল ১০ টা নাগাদ শান্তনুর রিসোর্টে তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। সেখানে বলাগড় থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার নিলয় মালিক, শ্রীপুর বলাগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বিশ্বরূপ প্রমাণিক ও আকাশ ঘোষকে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে জেরা।


উল্লেখ্য,নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত হুগলি যুব তৃণমূলের দাপুটে নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খোঁজে শনিবার সকাল থেকে হুগলি জেলাজুড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। এদিন ইডির ছ’সদস্যের একটি দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে ব্যান্ডেল ও বলাগড়ে পৌঁছে যায়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে হাতুড়ি জোগাড় করে শান্তনু স্ত্রীর নামে কেনা বাড়ির তালা ভাঙা হয় পাশাপাশি তার গেস্ট হাউসের ভিতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ব্যান্ডেলের নিবেদিতা পার্কে বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে শান্তনুর। বাড়িটি অবশ্য তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার নামে। যদিও এই বাড়িতে কেউ থাকেন না তাঁরা। শনিবার ইডি আধিকারিকরা সেই বাড়িতে পৌঁছন। প্রথমে বাড়ির গেট খুলে ভিতরে ঢোকেন। সদর দরজায় তালা লাগানো ছিল।

আরও পড়ুন  আসানসোল কম্বলকাণ্ডঃ জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ

এরপর হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে একেবারে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন আধিকারিকরা। শুরু করেন তল্লাশি। তল্লাশি অভিযানে নেমে শান্তনু ঘনিষ্ঠ সুপ্রতিম ঘোষ ওরফে আকাশ নামে এক যুবকের বলাগড়ের বাড়িতেও যান তদন্তকারীরা। আকাশকে সঙ্গে নিয়েই বলাগড়ের গেস্ট হাউজে যায় ইডি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই আকাশ জিরাট কলেজের একজন অস্থায়ী কর্মী। শান্তনুর সঙ্গে আকাশের দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি লেনদেনের যোগসুত্র রয়েছে। শান্তনু কখন কোথায় যেতেন, কার সঙ্গে দেখা করতেন, কাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন সেসবই আকাশের থেকে জানার চেষ্টা করে ইডি।

About Post Author