সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ মার্চ: পুরীতে বাঙালিদের ভিড় চিরকালীন। বাঙালির অতি প্রিয় এই ভ্রমণ ডেস্টিনেশনে বেড়াতে গিয়ে অনেকেই হোটেল পাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েন। এবার সেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার পুরীতে পৌঁছেই তিনি ছুটলেন রাজ্য সরকারের নিজস্ব অতিথি নিবাসের জমি দেখতে। সেই জমি দেখে খুশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন সেখানে তিনি ‘বাংলা নিবাস’ গড়বেন। এরপরই ভাঙা ভাঙা ওড়িয়ায় বললেন, ‘আমি খুশি আছুন্তি। জমি দেখুন্তি, পছন্দ হুন্তি। কাল নবীনজিকে সাথ মিলুন্তি’। ওড়িশা সফরের তৃতীয় দিনেই তিনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভূবনেশ্বরে পৌঁছে গিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত ওখানেই কাটিয়ে তিনি বুধবার সকালেই আসেন পুরীতে। জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার আগে নিউ পুরীতে রাজ্য সরকারের আবাস নির্মাণের জন্য জমি দেখতে যান তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, পুরীতে একটি অতিথি নিবাস বানাবে রাজ্য সরকার। সেই মতো জমি চাওয়া হয়েছিল ওড়িশা সরকারের কাছে।
আরও পড়ুন ‘ঘিয়ের জন্য ঘেউ ঘেউ করছে’, তৃণমূলের মনোরঞ্জনের নিশানায় ডিএ আন্দোলন?
উল্লেখ্য, নিউ পুরী এলাকায় বিভিন্ন রাজ্যের জন্য জমি রেখেছে নবীন পট্টনায়কের সরকার। সেখানেই বাংলার জন্য জমির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিন সেই জমিই পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ওই জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজে পাবে রাজ্য সরকার। তবে কতটা জমি পাওয়া যাবে তা এখনও জানা যায়নি। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে সাক্ষাতে এই জমির বিষয়ে আলোচনা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিউ পুরী এলাকায় যেখানে জায়গা পাচ্ছে রাজ্য সরকার সেটা পুরীর মেরিন ড্রাইভ ধরে বেশ কিছুটা যেতে হবে। সূত্রের খবর, জমি দেখে খুশি মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তাঁকে প্রস্তাবিত অতিথি নিবাসের নকশাও দেখেন তিনি। এরপর ওড়িশা সরকারের ছাড়পত্র পেলেই নির্মানকাজ শুরু করে দেবে রাজ্য সরকার। এদিন জমি দেখার পর খোশ মেজাজে থাকা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জায়গা আমার পছন্দ হয়েছে। আপনারা জানেন পুরী বাংলার মানুষদের ফার্স্ট হোম। রথ হোক বা ছুটির সময়, বাংলার পর্যটকদের প্রথম পছন্দ পুরী। কিন্তু ভিড়ের সময় জায়গা পাওয়া যায় না। কখনও কখনও পর্যটকদের থাকার জায়গা পাওয়া যায় না’।
আরও পড়ুন মুখ্যমন্ত্রীর পুজো দেওয়ার দিনই ৪ ঘণ্টা বন্ধ পুরীর জগন্নাথ মন্দির! তুঙ্গে জল্পনা
এদিন তিনি আরও জানান, নিজেও এক সময় পুরীতে হোটেল রুম পাননি। ওড়িশা সরকারের তরফে তাঁকে থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এখান থেকেই তিনি সোজা চলে যান পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে। উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল থেকে এক বিশেষ রীতি পালনের জন্য চার ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে পুরীর মন্দিরের দরজা। তার আগেই কড়া নিরাপত্তায় পুজো দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


More Stories
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব