সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মার্চ: কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ করা টাকায় এখন রাজ্যের পঞ্চায়েত এলাকায় বিদ্যুতের বিল মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। পঞ্চদশ অর্থ কমিশ নের বিপুল টাকা রাজ্যের ত্রিস্তর গ্রাম পঞ্চায়েতে পড়ে আছে। এদিকে,১৫ মাস ধরে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। তার মধ্যে আবাস যোজনার টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। কার্যত সেকারণেই ক্ষোভ জানিয়ে এক সপ্তাহ পর কলকাতায় ধর্নায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামো খাতের টাকায় কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরি না করে বিদ্যুৎ বিল মেটাবে রাজ্য সরকার! ১০০দিনের কাজের টাকা বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলা সফরে প্রশাসনিক বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নে জোর দিতে বলেছিলেন। কিন্তু রাস্তা ছেড়ে পঞ্চায়েত দফতরই এখন বিদ্যুৎ পুড়িয়ে সম্পদ সৃষ্টির টাকায় বিলের খরচ মেটাবে। পঞ্চায়েত দফতরের বিশেষ সচিব রাজ্যের সব জেলাশাসকদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতেই জেলাশাসকদের বলা হয়েছে, জেলার ত্রিস্তর পঞ্চায়েতগুলিতে বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে আছে।

আরও পড়ুন দাম্পত্য জীবনে সুখ আনতে পাতে রাখুন জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার
কিন্তু,ওই বিদ্যুৎ বিল মেটানোর পথ কী? জেলাশাসকদের জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের যে বিপুল টাকা জেলায় পড়ে আছে। ওই টাকা দিয়েই মিটিয়ে দিতে হবে বকেয়া বিদ্যুতের বিল। রাজ্যে এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ দফতরের কাছে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। পুরসভাগুলির কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিলের বকেয়ার পরিমাণ এখন ৩১৮ কোটি টাকা। পঞ্চায়েত ও পুরসভা মিলিয়ে এখনও প্রায় ৬৬৮ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। বিপুল এই বকেয়া থাকার কারণে বেশ কয়েক দফায় ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর তরফ থেকে পঞ্চায়েত দফতরে বিল মিটিয়ে দেওয়ার চিঠি গেছে। বিপুল পরিমাণ বিল বকেয়া থাকায় বণ্টন কোম্পানির কোষাগারে বাড়ছে চাপ। এই আর্থিক দায়ভার না কাটাতে পারলে আগামীদিনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ঋণ ও অর্থ সাহায্য দু’টিই পেতে সমস্যায় পড়বে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ। এখন সেই বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের টাকা মেটানোর জন্য রাজ্য সরকার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পাঠানো ‘আনটায়েড’ খাতের টাকা খরচ করার নির্দেশ দিয়েছে।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দুই পদ্ধতিতে টাকা আসে প্রতিটি রাজ্যের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে। ‘টায়েড’ খাতের টাকায় গ্রামীণ এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল, জল পরিশোধন ও নিকাশি সহ পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে খরচ করার কথা। একইভাবে ‘আনটায়েড’ খাতের টাকাও কোনও কাজে খরচ করা যাবে, তার গাইডলাইন আছে। মূলত পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশপাশি জন পরিষেবার কথা উল্লেখ করে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে খরচের কথা বলা আছে। তবে তা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ খরচের কথা জানানো আছে। কিন্তু পঞ্চায়েত দফতরের তরফ থেকে পাঠানো চিঠিতে অর্থ কমিশনের নিয়মকে কোনও তোয়াক্কা করা হয়নি। বিধি ভঙ্গ করেই কেন্দ্রের অর্থ কমিশনের টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটানোর জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন জার্মান তারকা মেসুত ওজিল

এমনিতেই ১০০দিনের কাজ, আবাস যোজনার দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রের নজরদারিতে আছে রাজ্য। অর্থ কমিশনের টাকা খরচ নিয়ে এখনও চোখ পড়েনি কেন্দ্রীয় সরকারের। এরপর অর্থ কমিশনের টাকা খরচ কীভাবে হচ্ছে তা কেন্দ্রীয় সরকার তদন্ত শুরু করলে আবারও বিপদ বাড়বে রাজ্যের। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে রাজ্যে অতীতে কখনও বিদ্যুৎ বিল মেটানোর জন্য অর্থ কমিশনের টাকা খরচ করার উদাহরণ নেই। কারণ, অতীতে রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলের টাকা খরচ করে মেটানো হত জন পরিষেবার খাতে ব্যয়।


More Stories
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে
সিআইডি অবিলম্বে অভিষেককে গ্রেফতার করতে চায়, অন্তরায় হাইকোর্টের নির্দেশ
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গুলি, নিহত ৩০