সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ মার্চ: অনশন প্রত্যাহার করলেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ চেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। ধর্মতলায় সহিদ মিনার চত্বরে চলছিল অনশন কর্মসূচিও। কিন্তু অনশন চলাকালীন অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। কারও কিডনির সমস্যা দেখা যায়, কেউ বা গ্যাসট্রিকের সমস্যায় পড়েছেন। ফলে ৪৪ দিনের মাথায় অনশন তুলে নিলেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। শনিবার সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এই ঘোষণা করে। মঞ্চের নেতা, তাপস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘এই দীর্ঘ অনশনে অনেক কর্মীই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। তাই কর্মীদের শরীরের কথা মাথায় রেখে আপাতত অনশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চলবে’।
আরও পড়ুন শিরে সংক্রান্তি? দেশের দৈনিক করোনা আক্রান্ত ১,৫০০ পার করল, মৃত্যু হল ৩ জনের

উল্লেখ্য, আরও ৪ শতাংশ ডিএ বা মহার্ঘ্য ভাতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিদের ডিএ বেড়ে হল ৪২ শতাংশ। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, তাঁরা এখন ডিএ পাচ্ছেন মাত্র ৬ শতাংশ। অর্থাৎ ফারাক ৩৬ শতাংশের। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের একটা বড় অংশ। শাসক বিরোধী কর্মচারি ইউনিয়নগুলি একত্রিত হয়ে যৌথ মঞ্চ তৈরি করে এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। যদিও ডিএ নিয়ে মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কিন্তু শীর্ষ আদালতে সেই মামলা পরপর পাঁচবার পিছিয়ে যায়। আগামী মাসের শুরুতে নতুন করে সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আপাতত আর কোনও সুরাহা হচ্ছে না ধরে নিয়েই এদিন অনশন প্রত্যাহার করে নিল ডিএ আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন হাইকোর্টের নির্দেশের পর সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজ নিয়ে নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য পুলিশ

এদিন দাবি আদায়ের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। এরমধ্যে অন্যতম, রবিবার সংগঠনের তরফ থেকে আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে গণ ইমেল করবেন বকেয়া ডিএ-র দাবিতে। পাশাপাশি গণ ইমেল করা হবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এরপর আগামী ৩০ মার্চ কলকাতায় হবে মহামিছিল। একটি হাওড়া থেকে অন্যটি শিয়ালদা স্টেশন থেকে মিছিল হবে বলেই জানিয়েছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। দুটি মিছিল এসে মিশবে ধর্মতলায়। সেখানেই হবে মহাসমাবেশ। তার আগে ২৯ মার্চ একদিনের প্রতীকী গণ-অনশন করবেন আন্দোলনকারীরা। আগামী মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে দুদিনের অবস্থান বিক্ষোভ করবেন তাঁরা। রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের আন্দোলনকে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলই সমর্থন জানিয়েছে। যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকারের যা ভাঁড়ারের অবস্থা তাতে এখনই ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে কোনও সুযোগ ছাড়তে নারাজ ডিএ আন্দোলনকারীরা।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের