Home » দুয়ারে সরকার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাকদলের বিক্ষোভ

দুয়ারে সরকার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাকদলের বিক্ষোভ

সময় কলকাতা ডেস্ক,১ এপ্রিলঃ ফের প্রকাশ্যে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল। “দুয়ারে সরকার” কর্মসূচিতে বারবার আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি কিছু। আজও অন্ধকারে ঢুবে আস্ত গোটা গ্রাম। আর তাই দুয়ারে সরকার কর্মসূচির টেবিল চেয়ার উল্টে ফেলে দিলেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের সদস্য এবং অঞ্চল সভাপতি। অভিযোগ, এর আগে কর্মসূচি প্রকল্পে বারবার অভিযোগ জানানো হয়। সরকারি আশ্বাস ছাড়া আজ পর্যন্ত মেলেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা। আর তাই ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির কর্মীদের শাসক দলের হুমকির মুখে পড়তে হলো এদিন। ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসার বিদবিহারের কৃষ্ণপুর এলাকার।


শনিবার থেকে ফের রাজ্যে শুরু হয়েছে “দুয়ারে সরকার” কর্মসূচি। কাঁকসার বিদবিহারের কৃষ্ণপুর এলাকায় এদিন বিদ্যুৎ দফতরের ক্যাম্প বসলে, সেখানে পৌঁছে যান স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং অঞ্চল সভাপতি। টেবিল-চেয়ার উল্টে ফেলে দেন তারা। অভিযোগ এরপর বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের তীব্র ধমক এবং ফিরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন পঞ্চায়েত সদস্য এবং অঞ্চল সভাপতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাঁকসার মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ।

আরও পড়ুন    বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন পর্নোগ্রাফি দেখার জের,বহিষ্কারের দাবি বিরোধীদের

উল্লেখ্য, গত পাঁচ মাস আগে বিদবিহারের শিবপুরের রায়ডাঙা এলাকায় ২টি পরিবার আবেদন করেছে বিদ্যুতের। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি বিদ্যুৎ পরিষেবা। বিদ্যুৎ না মেলায় ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন সূত্রধর এবং অঞ্চল সভাপতি কাজল শেখকে। ফের শনিবার দুয়ারে সরকার কর্মসূচি শুরু হলে, বিদ্যুৎ দফতরের সেই ক্যাম্প কর্মীদের ওপর ক্ষোভের আঁচ এসে পড়ে। উল্টে দেওয়া হয় নথিপত্র সহ টেবিল। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের চূড়ান্ত ধমক দেয় এলাকার দুই দাপুটে তৃণমূল নেতা। যতক্ষন না পযন্ত বিদ্যুৎ মিলছে ততক্ষণ দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের বসতে দেওয়া হবে না বলেও দাবি করে তারা।

বিদ্যুতের জন্য আবেদনকারী অজিত বাগদীর অভিযোগ ৫ মাস হয়ে গেলেও বিদবিহারে আসেনি বিদ্যুৎ। এবিষয়ে আকসার তৃণমূল সহ-সভাপতি হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে এই ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি তবে বিদবিহারে দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে কি ঘটেছে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সুর ছড়িয়েছে বিরোধীরাও। বিজেপির ব্লক সাধারণ সম্পাদক ভগিরথ ঘোষ বলেন পরিষেবা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তাই পিঠ বাঁচাতে সরকারের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ দেখাচ্ছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন    ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আন্দামান নিকোবর দীপপুঞ্জ

প্রসঙ্গত,রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত কর্মসূচি হল দুয়ারে সরকার। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচি রাজ্যের শাসক দলকে যথেষ্ট অক্সিজেন যুগিয়ে ছিল। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। জনসংযোগ কে গুরুত্ব দিয়ে তাই ফির একবার রাজ্য জুড়ে এই কর্মসূচি চালু করেছে মমতা সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন নিয়োগ দুর্নীতি, গরু পাচার, কয়লা পাচার সহ একাধিক ইস্যুতে কোণঠাসা রাজ্যের শাসক দল তখন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জনসংযোগ কে হাতিয়ার করতে চাইছে তৃণমূল। যদিও এখন সরকারি সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে। এক্ষেত্রেও উঠছে স্বজন-প্রসনের অভিযোগ। দুয়ার সরকার কর্মসূচিতে জানিও লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। তাই এবারের পঞ্চায়েত ভোটের আগে সরকারি সামরিক প্রকল্প গুলো কতটা অক্সিজেন দিতে পারবে রাজ্যের শাসক দলকে তা নিয়ে উড়তে শুরু করেছে প্রশ্ন।

About Post Author