সময় কলকাতা ডেস্ক,৪ এপ্রিলঃ সোমবার রিষড়া যেতে চেয়েও পারেননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতরা। কোন্নগর ডিওলডি মোড়ে আটকে দিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবাদে টানা পাঁচ ঘণ্টা জিটি রোডের ধারে বসেন তারা। একইভাবে মঙ্গলবারও শ্রীরামপুর যাওয়ার পথে দিল্লি রোডেই সুকান্ত জ্যোতির্ময়দের আটকে দিল পুলিশ। দিল্লি রোডে ডানকুনি থানার জগন্নাথপুর মোড়ে বিজেপির নেতাদের আটকায় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ চলে তর্কাতর্কি চলে দু’পক্ষের। সুকান্তরা পুলিশকে বলেন, ‘১৪৪ ধারা জারি হলে ৫ জনের বেশি জড়ো হওয়া যায় না। আমি আর জ্যোতির্ময় যাব। আমরা দু’জনেই সাংসদ। আপনারা আটকাচ্ছেন কেন?’ জবাবে পুলিশ জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলার কারণেই তাঁদের পক্ষে যেতে দেওয়া সম্ভব নয়। সুকান্তর অভিযোগ, ১৪৪ ধারার নামে আইন ভাঙছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতের অশান্তির পর এদিন গোটা শ্রীরামপুর ও রিষড়া পুর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে ৩ ঘণ্টা ধরে বিপর্যস্ত থাকে হাওড়ার ট্রেন। মধ্যরাত পর্যন্ত দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা। হুগলির রিষড়া স্টেশনের কাছে সোমবার রাতে অশান্তির জেরে হাওড়া-বর্ধমান শাখায় প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। স্টেশনের কাছে চার নম্বর রেল গেট এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি হয় বলে অভিযোগ। অশান্তির কারণে যাত্রী নিরাপত্তায় রিষড়া স্টেশন দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় একটি আপ ব্যান্ডেল লোকালকে। দুর্ভোগে পড়তে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ১টার পর থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে পরিষেবা। এর পর পুলিশ রিষড়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে পরিষেবা।
আরও পড়ুন রিষড়াকাণ্ডে এবার হাইকোর্টে শুভেন্দু, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন বিরোধী দলনেতার

প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেলে রিষড়ায় রামনবমীর মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ, শ্রীরামপুরে বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মোহন আদক-সহ একাধিক নেতা,বিধায়ক। অশান্তির জেরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বিজেপি সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের। যদিও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে সময়মতো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বড় কোনও বিপদ হয়নি। ইতিমধ্যেই এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর,রিষড়া ৫ নং ওয়ার্ড এলাকায় জিটি রোডের উপর আচমকাই মিছিলে হামলা চলে বলে অভিযোগ। চলে ইটবৃষ্টি। তাতে মোহন আদকের গাড়ির কাঁচ ভাঙে, আহত হন বিধায়ক বিমান ঘোষও। তাঁদের তড়িঘড়ি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত বিধায়ককে হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হাসপাতালে। সরব বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে কার্যত ফেটে পড়েন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?