Home » এভাবেও ম্যাচ জেতা যায়!

এভাবেও ম্যাচ জেতা যায়!

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১০ এপ্রিল: এভাবেও ম্যাচ জেতা যায়! ২০ তম ওভারের শেষ বলটি যখন বাউন্ডারি অতিক্রম করে মাঠের বাইরে পড়ল, তখন বেশিরভাগ ক্রিকেট প্রেমীদের মনেই এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল। রবিবারের আহমেদাবাদ স্টেডিয়াম যেন এই মুহুর্তের জন্য প্রস্তুত ছিল না। থাকার কথাও নয়। কারণ আইপিএলের ১৬ তম সংস্করণে এই প্রথমবার শেষ ওভারে পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে হারা ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করল কোনও দল। সৌজন্যে উত্তর প্রদেশের আলীগড়ের ২৫ বছরের তরুণ রিঙ্কু সিং। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৯ রানের প্রয়োজন ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। হাতে তখন বাকি মাত্র তিন উইকেট। তার উপর প্রতিপক্ষে গতবারের চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটন্স। কিন্তু এরকম একটি পরিস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে খেলার ভাগ্য কিভাবে লিখতে হয়, দেখালেন রিঙ্কু। ম্যাচের শেষ ওভারে নিজের রাজ্যের ফাস্ট বোলার যশ দয়ালের শেষ পাঁচটি বলে পরপর পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি মেরে রাতারাতি ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে সুপারস্টার বনে গেলেন আলিগড়ের রিঙ্কু।

এদিন শেষটি যদি হয় কেকেআরের। শুরুটা হয়েছিল গুজরাটের। এদিন টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় গতবারের আইপিএল জয়ী দলের অধিনায়ক রশিদ খান। হার্দিক না খেলায় এদিন দলকে নেতৃত্ব দেন এই আফগান স্পিনার।ঋদ্ধিমান ও গিলের সৌজন্যে শুরুটা খারাপ হয়নি গুজরাটের। তবে পঞ্চম ওভারে প্রথম ছন্দ কাটে। ১৭ বলে ১৭ রান করে ফেরেন ঋদ্ধি। এরপর গিল ও সুদর্শন গুজরাটের স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান। ১২ তম ওভারে গিলকে ৩১ বলে ৩৯ রানে ফেরান নারিন। এরপর সাই সুদর্শন ও বিজয় শঙ্কর গুজরাটের মোট রান ২০০ র ঘরে নিয়ে যান। ৩৮ বলে ৫৩ রানের দুরন্ত ইনিংস উপহার দেন গুজরাটের ইমপ্যাক্ট ব্যাটার। এদিন ব্যাটে ঝড় তোলেন বিজয় শঙ্কর। ২৪ বলে ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস সাজানো ছিল চারটি চার ও পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৪ রানে শেষ হয় গুজরাটের ইনিংস।

এই ফরম্যাটের যে কোনও ম্যাচে ২০৫ রান তাড়া করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। এদিন বোলিংয়েও শুরুটা ছিল গুজরাটের পক্ষে। প্রথম চার ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার গুরবাজ ও জগদীশনকে হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় কলকাতা। এরপর দলের হাল ধরেন কেকেআরের ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন নাইট অধিনায়ক নীতিশ রানা। এই জুটি কলকাতার স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ১০০ রান। এরপর জোসেফের বলে ২৯ বলে ৪৫ রান করে ফেরেন অধিনায়ক নীতিশ রানা। এর কিছুক্ষনের মধ্যে কেকেআর শিবিরে ফের ধাক্কা দেন জোসেফ।

আরও পড়ুন   অনলাইন গেমিংয়ে আসক্ত? খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে নয়া নিয়ম!

নাইটদের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে শতরানের সুযোগ হাতছাড়া করেন ভেঙ্কটেশ। ৪০ বলে ৮৩ রান করে ডাগআউটে ফেরেন ভেঙ্কটেশ। এরপর ঘরের মাঠে গুজরাটকে প্রায় জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন আফগান বোলার রশিদ খান। পরপর তিন বলে ফেরালেন আন্দ্রে রাশেল, সুনীল নারিন ও শার্দুল ঠাকুরকে। তখন অতি বড় নাইট সমর্থকও হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই উমেশ যাদবকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক ইনিংস উপহার দিলেন রিঙ্কু সিং। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারতীয় ক্রিকেটের এক নতুন তারকার জন্ম হল। রিঙ্কুর ইনিংসে উচ্ছ্বসিত তাঁর সতীর্থ থেকে দলের মালিক সকলেই। অপরদিকে এই ম্যাচ গোটা টুর্নামেন্টে কেকেআর শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

About Post Author