স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৪ এপ্রিল: টুর্নামেন্ট বদল হয়, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের খেলার পরিবর্তন হয় না। আইএসএলের পর সুপার কাপের প্রথমে গোল করে এগিয়ে গিয়েও, গোল হজম করতে হল স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের ছেলেদের। বৃহস্পতিবার কেরালার মঞ্জেরী পায়নদ স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে দুই বার এগিয়ে গিয়েও জিতেতে ব্যর্থ হল ইস্টবেঙ্গল। এদিন ম্যাচে একটি পরিবর্তন করেছিলেন লাল হলুদের বিদায়ী কোচ। কারালাম্বুস কিরিয়াকুর পরিবর্তে শুরু থেকে নামিয়ে দেন সুহের ভি পি। এর ফলে মাঠে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ে ইস্টবেঙ্গলের।

ম্যাচ শুরুর চার মিনিটের মাথায় ক্লেটনের দুরন্ত পাস থেকে লাল হলুদকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মহেশ নাওরেম সিং। তবে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় হায়দরাবাদের হয়ে সমতা ফেরান সিভেরিও। এরপর ফের জ্বলে ওঠে মশাল বাহিনী। ম্যাচের ১৭ মিনিটে দলকে আরও একবার এগিয়ে দিয়েছিলেন কেরালার ভূমিপুত্র ভিপি সুহের। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে জেক জার্ভিসের শট হায়দরাবাদের গোল রক্ষক বাঁচলে ফিরতি শটে গোল করেন সুহের। এরপর ম্যাচের ৪৪ মিনিটে ফের জ্বলে ওঠে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। এবারও প্রথম গোলের পুনরাবৃত্তি হল। ক্লেটনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও ইস্টবেঙ্গলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন মহেশ নাওরেম সিং। প্রথমার্ধের ইস্টবেঙ্গলের দাপুটে ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বিপক্ষ।

Kকিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ম্যাচের চিত্রনাট্য। দ্বিতীয়ার্ধে হয়দরাবাদ কোচ মানুয়েল মার্কুয়েসর জোড়া পরিবর্তনই ম্যাচের রং বদলে দেয়। রোহিত দানু ও জোয়েল চিয়ানসেকে তুলে মহম্মহ ইয়াসির ও বোরখা এরেরাকে নামান হায়দরাবাদের স্প্যানিশ কোচ। ম্যাচের ৭১ মিনিটে বিপক্ষের হয়ে একটি গোল শোধ করেন সেই সিভিয়েরো। এক্ষেত্রে গোলের বলটি তৈরি করেছিলেন পরিবর্ত হিসেবে নামা বোরখা। এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরান আব্দুল রাবেয়া। তৃতীয় গোলের জন্যও দায়ী লাল হলুদের দুর্বল রক্ষণ। এরপর বেশ কয়েকবার গোলের সামনে পৌঁছলেও গোলের সন্ধান পাননি ক্লেটন, মহেশরা। ম্যাচ শেষে নিজের দলের ফুটবলারদেরই দুষলেন লাল হলুদ কোচ।
আরও পড়ুন ভেস্তে গেল ধোনির লড়াই, শেষ মুহূর্তের স্নায়ুযুদ্ধে রাজস্থানের কাছে হার চেন্নাইয়ের

এই ড্রয়ের ফলে সুপার কাপের সেমিফাইনালের রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। এই গ্রুপের অপর একটি ম্যাচে লাজং এফসিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ওড়িশা এফসি। এর ফলে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে রয়েছে ওড়িশা। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হায়দরাবাদ। গোল পার্থক্যের বিচারে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে তারা। আর দুই ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে লাল হলুদ। অঙ্কের বিচারে যদিও ইস্টবেঙ্গলের সামনে সুপার কাপের দরজা এখনও বন্ধ হয়নি। ওড়িশা হায়দরাবাদের শেষ ম্যাচটি যদি ড্র হয়, আর লাজংয়ের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল বড় ব্যবধানে জিততে পারে তাহলেই সুপার কাপের সেমিতে খেলতে পারবেন ক্লেটনরা। নাহলে এবারও খালি হাতে ফিরতে হবে কেরালা থেকে।


More Stories
পাকিস্তান বধ, সমতায় অজিবাহিনী
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত