সময় কলকাতা ডেস্ক,২৩ এপ্রিল: ডিএ মামলা আবারও ধাক্কা খেল সুপ্রিম কোর্টে। ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি। সোমবার অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরী ও বিচারপতি জেবি পার্ডিওয়ালার বেঞ্চে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন কোনও বিশেষ কারণে বিচারপতি জেবি পার্ডিওয়ালা উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলেই সূত্রের খবর। কার্যত সেকারণেই বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরীর সঙ্গে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে নিয়ে বেঞ্চ তৈরির কথা বলা হয়। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ফলস্বরূপ সোমবার এই মামলার শুনানি হবে না বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন সিবিআই তলবের মুখে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক

এদিকে, গত ১৭ এপ্রিল ডিএ মামলার পর্যবেক্ষণে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের কড়া নির্দেশ ছিল, রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর নেতৃত্বে শীঘ্রই একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি দশ দিনের মধ্যে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পাঁচ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে বৈঠকে বসবে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি একাধিকবার পিছিয়ে গিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আগামী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল আগামী ২৪ এপ্রিল।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মতলার শহিদ মিনারে চলেছে তাঁদের আন্দোলন। মাস খানেক আগে তাঁরা অনশনও শুরু করেছিলেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে ২১ মার্চ অর্থাৎ সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। সেসময় চূড়ান্ত শুনানির আশায় দিল্লি গিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ওইদিনও তাঁদের আশাহত হতে হয়। ওইদিন সর্বোচ্চ আদালত জানায় আগামী ১১ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হবে। এরপর ফের পিছিয়ে যায় এই মামলার শুনানি। আদালতের তরফে জানানো হয় ২৪ এপ্রিল ডিএ মামলার শুনানি হবে। কিন্তু এদিনের শুনানিও নাটকীয় ভাবে পিছিয়ে গেল। ফলে মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে আন্দোলনকারীদের।

প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!