Home » বিশ্ব বই দিবস ও অধুনা লুপ্ত বইবাজার

বিশ্ব বই দিবস ও অধুনা লুপ্ত বইবাজার

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,২৩ এপ্রিল : বিশ্ব বই দিবস এলেই বইপ্রেমীদের মধ্যে কাজ করে এক আশ্চর্য স্মৃতি। ২৩ এপ্রিল যে তাঁদের কাছে  ছিল প্রতীক্ষার দিন। দিনটি স্মৃতিমেদুর, দিনটি নষ্টালজিয়ার।একসময় এই দিনটির সাগ্রহে অপেক্ষা করতেন কলকাতার পুস্তকপ্রেমীরা। দিনটি এলেই তীব্র রোদের মধ্যে বইপ্রেমী মানুষজন ভিড় জমাতেন রবীন্দ্রসদন, নন্দনের চারপাশে।সেদিন যে বিশ্ব বইদিবস। বিশ্ব বই দিবস উপলক্ষ্যে মেলার আদলে একদা রবীন্দ্র সদনে চলত  বইবাজার। বিশ্ব বই দিবস উদযাপন করতে আয়োজিত বইবাজারে কলকাতার বিখ্যাত পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতাদের স্টল বসত নন্দনের চারপাশে। ২৩ এপ্রিলে বিশ্ব বই দিবস এলেই বিরাট ছাড়ে বইয়ের স্টক ক্লিয়ারেন্স করত পুস্তক প্রকাশকরা। সেই বইবাজার আজ লুপ্তপ্রায় ।

আরও পড়ুন : লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি এবং লা জিয়োকোন্দে

এপ্রিলের ২৩ তারিখ বিকেলে উদ্বোধন হত বইবাজার আর দশ দিন ধরে চলত কলকাতা বইবাজার। ২০০০ সালের আগে ও পরে বেশ কয়েক বছর ধরে দশ দিন ধরে চড়া রোদের উৎসবের আঙ্গিকে চলত বইবাজার। প্রথম দিকের বছর গুলিতে নামী প্রকাশকদের বই ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যেত। পরে এই ছাড় কমে যায়।এখন তো আর বই বাজারের অস্তিত্বই এখন লুপ্ত।এই বাজার ফেরার সম্ভাবনা খুব কম।তবুও অল্প আয়ুতেই স্মরণীয় হয়ে থেকেছে বইবাজার।

আরও পড়ুন : বইমেলার খাওয়াদাওয়া

বইয়ের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। সাধারণের কেনার সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে বই।আজ থেকে কুড়ি পঁচিশ বছর আগে ছবিটা এমন ছিল না। বইয়ের দাম কম ছিল, তবুও এক শ্রেণীর পুস্তক ক্রেতা বইমেলায় ১০% ছাড়ে বই কিনতে সেভাবে আগ্রহী হতেন না।তাঁদের স্বপ্নের বই কেনাকাটার উৎসব ছিল বইবাজার।যেসব বইয়ে মলাট বা ফর্মার সামান্য গোলমাল থাকত তা নামেমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হত। তাছাড়া বিভিন্ন বইমেলায় ঝড় জল কাদায় প্রচুর বইয়ের ক্ষতি হত।এই ধুলো কাদা মাখা বই খুব কম দামে পাওয়া যেত বইবাজারে। আনন্দ, দেজ, মিত্র-ঘোষ – নামী প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে বই এত সুলভ মূল্যে পাওয়া যেত যে লেখকরাও দাঁড়িয়ে পড়তেন লাইনে। সকাল থেকেই রোদ উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়াতেন মানুষ আর দুপুর দুটোয় কাউন্টার খোলার আগে বিরাট কিউ পড়ে যেত। ২৩ এপ্রিলের আশায় সারা বছর ধরে অপেক্ষা করতেন বইপ্রেমীরা, স্বাভাবিকভাবেই  যারা চাইতেন কিছুটা কম দামে বই কিনতে। তাঁরা মুখিয়ে থাকতেন বইবাজারের জন্য।

উল্লেখ্য,২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবসের কার্যত সূচনা হয়েছিল স্পেনে। বিশ্ব বই দিবসের ধারণাটি আসে ভ্যালেন্সীয় লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব বই দিবস ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস উদযাপিত হবে ২৩ এপ্রিল, যেহেতু দিনটি ইংরেজ উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, পেরুর ইনকা গার্তিলাসো দে লা ভেগা, এবং স্পেনীয় মিগেল দে থের্ভান্তেস সহ  বিশিষ্ট লেখকের জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী। কলকাতা বইদিবসকে সে সময় থেকেই উদযাপন করে এসেছে।

আরও পড়ুন : পাবলো নেরুদা : বিশ্বসেরা কবি, বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব

বইবাজার এখন নেই, বই উৎসব আছে।এবারও কলকাতায় তালতলা মাঠে বইয়ের মেলার আদলে নববর্ষ বই উৎসব চলছে কিন্তু এখন আর ছাড় সেরকম মেলে না, অধুনালুপ্ত বইবাজারে যা হত। বইবাজার চলাকালীন এপ্রিল-মে মাসে যে যে বছর ভোট হত, তখন বইবাজার পিছিয়ে যেত, হত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে।বিগত দশক থেকে অনিয়মিত হয়ে যেতে থাকে বইবাজার।করোনা কালে বইবাজার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বইবাজার আর যে পুরোনো আমেজ নিয়ে ফিরে আসবে না তা অনেকটাই নিশ্চিত।।

আরও পড়ুন :বই-মালিনী মল্লিকা সেনগুপ্তের জন্মদিনে

About Post Author