সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ এপ্রিল: কালিয়াগঞ্জ কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বিগ্ন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। দিল্লি সফর কাটছাঁট করে ফিরছেন কলকাতায়। তবে দিল্লিতে বসেই ডিজি ও মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদীর কাছে রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। উল্লেখ্য, নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল কালিয়াগঞ্জ। মৃতার পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। এদিকে পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে নাবালিকা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিষপান। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি ও এসপির পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার এসপি অফিস ঘেরাও করে এবিভিপি, বিজেপি। মঙ্গলবার কালিয়াগঞ্জ থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় আদিবাসী সংগঠন। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি কালিয়াগঞ্জে। গোটা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর,ইতিমধ্যেই রাজ্যের পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিল্লি সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত কলকাতা ফেরার। রিপোর্ট তলবও করেছেন তিনি।

মঙ্গলবারই কালিয়াগঞ্জ থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় আদিবাসী সংগঠন। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় কালিয়াগঞ্জে। কয়েকঘন্টা কাটতে না কাটতেই পুলিশকে মারধরের ছবি ভাইরাল। প্রাণ বাঁচাতে থানা থেকে পালিয়েও রেহাই পেল না পুলিশ। লোকের বাড়িতে খাটের তলায় ঢুকে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টার সেই ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। খাটের নীচে আশ্রয় নিলেও লাভ হয়নি। সেখান থেকে বের করে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মার উন্মত্ত জনতার। মুখ থেকে ঝরছে রক্ত। এরপরে হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা পুলিশের। কালিয়াগঞ্জে পুলিশকে মারধরের ভয়ঙ্কর ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
আরও পড়ুন কালিয়াচক হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

অন্যদিকে, কালিয়াচক থেকে উদ্ধার হওয়া নাবালিকা মৃতদেহের ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ কালিয়াচকের রামনগর এলাকা থেকে বিশ্বজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মালদহের পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, বিয়ে করতে জোর দেওয়ায় খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকা ছাত্রীকে। জেলার পুলিশ সুপার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, মঙ্গলবার অজ্ঞাত পরিচয় ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হতেই জোরদার তদন্ত শুরু হয়। মালদহ, গাজোল, কালিয়াচক ও ইংরেজবাজার থানার আধিকারিকদের নিয়ে একটি দল তৈরি করা হয়। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে পুলিশ।

এরপরেই মালদহ থানার সূত্রে কিছু তথ্য প্রমাণ তাঁদের হাতে আসে। সেই সূত্রেই দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তাঁরা। “পুলিশের জেরায় দুই যুবকের একজন খুনের কথা কবুল করে। জানায়, ন’দিন আগে ফোন মারফত ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। মঙ্গলবারই তাদের প্রথম দেখা হয়। শারীরিক সম্পর্কও হয়। এরপর ওই ছাত্রী বিয়ের কথা বলায় বচসা বাধে। তখন গলায় ওড়না জড়িয়ে ওই ছাত্রীকে সে খুন করেছে।” মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত ভারতীয় সংবিধানের ৩০২, ২০১ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পকসো আইনেও মামলা রুজু হচ্ছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার।


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা