পুরন্দর চক্রবর্তী ও সুদীপ ঘোষ,সময় কলকাতা, ২৩ মে : এগরার খাদিকুল গ্রাম থেকে উত্তর ২৪ পরগনা সদর শহর বারাসাতের দূরত্ব অনেকটাই। শতাধিক কিলোমিটারের তো বলাই যায় ।একদিকে এগরা খবরের শিরোনামে। মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ রয়েছে।রাজ্যজুড়ে বাজি-উদ্ধারে তৎপর পুলিশ। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে যেরকম বারাসাত পুলিশ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জী ফিরে এসেছেন নিজের পুরনো কর্মস্থলে বা পুরোনো জেলায় , তেমনটাই বারাসাত জেলা পুলিশ বেআইনি বাজি-উদ্ধারের দিকে তাদের নজরদারি প্রবল থেকে প্রবলতর করে চলেছে। পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জী তাঁর পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, বারাসাত বা বারাসাত লাগোয়া বিভিন্ন বাজি কারখানা সদাসর্বদাই বিস্ফোরণের পটভূমি। তিনি বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর নিশ্চিতভাবেই চাননি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে উত্তর ২৪ পরগনার নারায়ণপুর, আমডাঙ্গা সহ যে জায়গা গুলি বাজি কারখানা কুটির শিল্প হয়ে ওঠার কারণে বারুদের স্তুপের উপরে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে আরেকটি বিস্ফোরণের বিন্দুমাত্র আশঙ্কা থাকুক। পঞ্চায়েত ভোটের আগে আর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে চায় না জেলা পুলিশ প্রশাসন।কারণ বাজি বিস্ফোরণেই হোক আর নির্বাচনেই হোক – ঘটনাপূর্ণ ও জনবহুল উত্তর ২৪ পরগনা যে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসে!বারাসাত পুলিশ জেলা আগের বৃহত্তর পুলিশ জেলার চেয়ে আয়তনে ছোট হয়ে এলেও এই বৃহৎ জেলার সদর যে বারাসাত,জেলা শাসকের দফতর সহ জেলার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের দফতর বারাসাতেই । কোনওরকম ঝুঁকি আর নিতে রাজি ছিল না বারাসাত জেলা পুলিশ প্রশাসন।এগরার খাদিকুল খবরের শিরোনামে আসতেই বাজি-উদ্ধারের বিষয়ে রীতিমত তৎপর বারাসাত জেলা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে কয়েকশো কুইন্টাল বেআইনি বাজি।তথাপি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ঘটনা হচ্ছে,গত কয়েকদিন ধরেই বাজি উদ্ধার চলছিল বারাসাত পুলিশ জেলা জুড়ে। সোমবার রাতে দত্তপুকুর এলাকা থেকে ১০০-১৫০ কুইন্টাল অবৈধ বাজি উদ্ধার করা হয় দত্তপুকুরের জনৈক ইবাদাত মণ্ডলের বাড়ি থেকে।মধ্যমগ্রাম বিধানসভার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত নীলগঞ্জ কাঠুরিয়া এলাকা থেকে এই ১০০-১৫০ কুইন্টাল নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দত্তপুকুর বেরোনান পুকুরিয়া এলাকা থেকে এই অবৈধ বাজি উদ্ধার করা হয়।বাড়ির মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এক দিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রীর নির্দেশ। অন্যদিকে পঞ্চায়েত ভোট দূরে নেই। মুখে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা কিছুই উল্লেখ নেই। বলা হচ্ছে,এই লুক আউট তল্লাশি অভিযান চলছে জেলা জুড়ে। যা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে, জানিয়েছে পুলিশ।এই তল্লাশি অভিযানে ঘটনাস্থলে যান বারাসত এসডিপিও অনিমেষ রায় ও দত্তপুকুর থানার আইসি শুভব্রত ঘোষ।তাদের নেতৃত্বে উদ্ধার হওয়া আতসবাজি বারাসত ডিস্ট্রিক্ট ট্রাফিক হেডকোয়ার্টারে আনা হয়। এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর থেকেই তৎপর প্রশাসন। সেদিনের বিস্ফোরণ নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যকে। এবং বারাসাত থেকে এককথায় বিপুল বাজি উদ্ধার হয়েছে গত কয়েকদিনে। এগরার খাদিকুল কাণ্ড সামনে আসতেই বারাসাত জেলা পুলিশ যে বিপুল পরিমানে বাজি উদ্ধার করছে তা আপাত প্রশংসার যোগ্য। প্রশ্ন অন্যত্র।

তবুও প্রশ্ন উঠছে।প্রশ্ন উঠছে, এত বাজি এল কোথা থেকে? কী করে এত বাজি মজুত হল? নিশ্চিতভাবেই একদিনে এত বাজি প্রস্তুত হয় নি। তবুও সাধারণ মানুষ বলছেন, সামান্য দেরিতে হলেও অন্যজেলায় বজ্রপাতের খবর পেয়ে ঘর নিরাপদ রাখার এই উদ্যোগ নিশ্চিতভাবেই প্রশংসনীয়।।
আরও পড়ুন :নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সহবাসের অভিযোগে গ্রেফতার শিক্ষিকা


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর