সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ মে: গরু পাচার মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গরু পাচার মামলায় ফের সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মুর্শিদাবাদে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার শুল্ক বিভাগের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই শুল্ক বিভাগের দু’জন আধিকারিককে গরু পাচার সংক্রান্ত নানান প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আরও দু’জন শুল্ক অফিসারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন নতুন সংসদ ভবনে শোভা পাবে ঐতিহাসিক রাজদণ্ড ‘সেঙ্গোল’

কিছুদিন আগেই গরু পাচার মামলায় বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে আদালতে ২০৪ পাতার যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, তাতে কার্যত অভিযোগ করা হয়েছে বিএসএফের বিরুদ্ধেই। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা দাবিতে বিপাকে কেন্দ্রেরই বাহিনী। বলা হয়েছে, যে চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে গরু পাচার হত, তাতে বড় ভূমিকা ছিল বিএসএফ কর্তাদের। এই প্রসঙ্গ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইডি’র চার্জশিটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ‘বিএসএফ আধিকারিকদের যোগসাজশে ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত মারফত গরু পাচার করা হত। রাত ১১টা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত সীমান্তের নির্দিষ্ট জায়গা হাট করে খুলে দিত বিএসএফ। তারপর পাচার চলত।’ ৪ মে বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মন্ডল ও কন্যা সুকন্যা মন্ডলের নামে রাউস এভিনিউ কোর্টে ২০৪ পাতার চার্জশিট পেশ করে ইডি। সূত্রের খবর, ইডির পেশ করা ওই চার্জশিটে নাম ছিল অনুব্রতর হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিরও। ইডির চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে যে, গরু পাচারের মাধ্যমে কমপক্ষে ৪৮ কোটি টাকা পেয়েছেন অনুব্রত মন্ডল।

আরও পড়ুন মোটা অঙ্কের মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন গায়ক নোবেল
উল্লেখ্য, গরু পাচার মামলায় বুধবারই বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। কিছুদিন আগেই অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী মুদিত জৈন তাঁর মক্কেলের জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই আর্জিও খারিজ হয়ে গেল। আগামী জুন মাসেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলেই সূত্রের খবর। ততদিন পর্যন্ত তিহাড় জেলেই ঠাঁই অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের। অন্যদিকে, এদিনই অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী, মেয়ের নামে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। একইসঙ্গে অনুব্রতর বেশ কিছু অস্থাবর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করেছে ইডির আধিকারিকরা। গরু পাচার মামলার তদন্ত নেমে একাধিকবার ইডি দাবি করেছিল যে, অনুব্রত মণ্ডলের নামে-বেনামে বিপুল টাকার সম্পত্তি করেছেন। তারপর থেকেই শুরু হয় সম্পত্তির খোঁজ। সূত্রের খবর, বুধবার মোট ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে, বোলপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা বিপুল পরিমাণ জমি, শিব শম্ভু ও ভোলে ব্যোম রাইস-মিল সহ আরও অনেক কিছু।


More Stories
“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা “, জামিনের আবেদন সুজিত বসুর
ডিমথেরাপি অশোকনগরের গ্রেফতার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে
এবার ইডির স্ক্যানারে মদন মিত্র, হানা একাধিক স্থানে