সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ মে: স্বাধীনতার স্মারক হিসাবে লর্ড মাউন্টব্যাটনের হাত থেকে এই ‘রাজদণ্ড’ পেয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু। ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ব্রিটিশদের হাত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এটি নিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক সেই ‘সেঙ্গোল’ এবার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে নতুন সংসদ ভবনে। রবিবার নতুন সংসদ ভবনে উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিওই ‘রাজদণ্ড’ প্রতিষ্ঠা করবেন স্পিকারের আসনের ঠিক পাশে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

পাঁচ ফুট উঁচু সেঙ্গলের মাথায় রয়েছে ‘নন্দী’ ষাঁড়। যা ন্যায়বিচারের প্রতীক। সংসদে যে সেঙ্গোল প্রতিষ্ঠা করা হবে সেটি রাখা ছিল এলাহাবাদে রাষ্ট্রীয় জাদুঘরে। সেখান থেকে সেটি দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে নতুন সংসদ ভবনে স্থাপনের জন্য। এটির সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের অন্তিম মুহূর্তের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। এদিকে,রবিবারই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের কথা ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিল ১৯টি দল। ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, যেভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সাইডলাইনে রেখে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে তা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, চূড়ান্ত স্বৈরাচারী।
আরও পড়ুন নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিল ১৯ টি দল

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৮৫, ৮৬ এবং ৮৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডাকবেন, মুলতবি করবেন এবং লোকসভা ভেঙে দিতেও পারবেন। এছাড়া সংসদের যে কোনও সভা বা যৌথ সভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারবেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া বিল, অধ্যাদেশ আইনি স্বীকৃতি পায় না। রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে তাই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অসাংবিধানিক বলে মত বিরোধীদের। আগামী ২৮ মে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন। বয়কট ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূল দাবি তুলেছে, রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই সংসদ ভবনের উদ্বোধন করাতে হবে।

আরও পড়ুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কট প্রসঙ্গে বিরোধীদের তোপ প্রধানমন্ত্রীর
ইতিমধ্যেই দেশের নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ফের একবার বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলি জোটবদ্ধ হবার চেষ্টা শুরু করলো। আগামী ২৮ মে উদ্বোধন হতে চলেছে নতুন সংসদ ভবনের। ঐদিনই হিন্দুত্ববাদী সাভারকরের জন্মদিবস। বিরোধী বাম কংগ্রেসের দাবি, সাভারকারের জন্মদিন কে সামনে রেখেই বিজেপি নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি মহামহীম দ্রৌপদী মুর্মুকে। আর এই পুরো বিষয়টিকে সামনে রেখেই সংসদ ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কট করার প্রাথমিক পরিকল্পনাও নিয়ে ফেলেছে বিরোধী শিবির। বাম কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নয়, পদমর্যাদা অনুযায়ী নব সংসদ ভবনের উদ্বোধন করার অধিকারী রাষ্ট্রপতির। সীতারাম ইয়েচুরি-রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সুর মিলাতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই শারদ পাওয়ার, নীতিশ কুমার সহ অন্যান্য বিরোধী নেতৃত্ব। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পর পর চারটি টুইটে বিঁদ্ধ করেন নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকারকে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস রাষ্ট্রপতি পদকে স্মারকে পরিণত করতে চাইছে।


More Stories
“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা “, জামিনের আবেদন সুজিত বসুর
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে