সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ মে: হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে তিনদিনের সফরে সোমবারই আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকালের মধ্যেই ইম্ফল এসে পৌঁছবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনদিনের সফরে এসে সেখানের প্রশাসনিক আধিকারিক, সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তারই মধ্যে রবিবার রাতেও নতুন করে অশান্ত হয়েছে মণিপুর। একাধিক জায়গায় অশান্তি এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকেই সেনা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর গুলির লড়াই চলছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গিয়েছে, মণিপুরে গিয়ে রাজ্যবাসীর সঙ্গে কথা বলে সেখানে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুয়াহাটিতে গিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন মণিপুরের ১৪ জন বিধায়ক ও স্পিকার। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানও তিনি। সেই দলে ছিলেন স্পিকার সত্যব্রত এবং রাজ্যের চার মন্ত্রী ও ১০ বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে ১০ জন বিজেপির। এছাড়া এনপিপি ও এনপিএফের দু’জন করে বিধায়ক।

প্রসঙ্গত, শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফের নতুন করে মণিপুরে হিংসা ছড়িয়েছে। প্রাণ গিয়েছে একজনের। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি ভাবে পৌঁছল ৭৩-এ। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মণিপুরে অশান্তি চলছে। এর মূলে রয়েছে মেটেই জনজাতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংঘাত। মণিপুরের মেইতেই জনজাতিকে তফসিলি উপজাতির তকমা দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। মণিপুরের বিজেপি সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাতেই ক্ষুব্ধ কুকি-সহ অধিকাংশ আদিবাসী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, মেইতেইরাও যদি তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে আদিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তাছাড়া, মণিপুরের বিজেপি সরকার স্থানীয় বনাঞ্চলগুলিতে সমীক্ষা চালাচ্ছে। আদিবাসীদের আশঙ্কা, সরকার এবার বনভূমি ধ্বংস করতে চলেছে।

মণিপুরের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ মূলত দু’টি। প্রথমত, রাজ্যের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং জলাভূমির উপর বনবাসী জনজাতিদের চিরাচরিত অধিকার কেড়ে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের গির্জাগুলির উপর লাগাতার হামলার ঘটনা। পাল্টা রাজ্য সরকারের দাবি, রাজনৈতিক উস্কানির কারণেই এমন অশান্তির ঘটনা ঘটছে। আদিবাসী জনজাতিদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংহের সভার ঠিক আগেই চূড়াচাঁদপুরে সভাস্থলে তৈরি হয় অশান্তির পরিস্থিতি। বিক্ষুব্ধ জনগণ আচমকা সভাস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন ‘কুস্তিগিরদের আটক লজ্জার’, টুইটে সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

জানা গিয়েছে, আন্দোলনের পুরোভাগে রয়েছে মণিপুরের আইটিএলএফ নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বীরেন সিংহ সরকারের সঙ্গে আপোসের কোনও প্রশ্নই নেই। অগ্নিগর্ভ মণিপুরে নিষিদ্ধ হয়েছিল বড় জমায়েত। বন্ধ ছিল ইন্টারনেটও। বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে চারিদিকে। প্রায় দু সপ্তাহ ধরে জারি ছিল ১৪৪ ধারাও। কিন্তু এসবের মধ্যেও বিক্ষোভ কর্মসূচী চলছিল। মূলে রয়েছে মেটেই জনজাতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংঘাত। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে মেরি কমের মতো আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিটদেরও অসহায় হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানাতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মেরি কম টুইটে লিখেছেন, “আমার রাজ্য মণিপুর জ্বলছে। দয়া করে সাহায্য করুন।” নিজের টুইটে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে।


More Stories
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে
কীর্তি আজাদ “এনডিএ-র ষড়যন্ত্র” নিয়ে সরব
রাজনীতিকে বিদায়, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা কোয়েলের