সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ মে: ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচির রোড শো-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে এবং মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নিশিকান্ত মাহাতো নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। রবিবারই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে,এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। রবিবারই নয়াগ্রাম থেকে আটক করা হয় কুড়মি নেতা রাজেশ মাহাতো, শিবাজী মাহাতো ও রাকেশ মাহাতোকে। ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা জানিয়েছেন, তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও পরে রাজেশ মাহাতো সহ আট কুড়মি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার তাঁদেরকে আদালতে তোলা হয় বলেই সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে, যা জামিন অযোগ্য। এই হামলা প্রসঙ্গে রাজেশ মাহাতো জানিয়েছিলেন, ”এই হামলার সঙ্গে কুড়মি সমাজ কোনওভাবেই জড়িত নন। বহিরাগতরা কেউ আমাদের বদনাম করতে হামলা চালিয়েছে।”

উল্লেখ্য,শালবনীতে তৃণমূল সুপ্রিমো নবজোয়ারের সভায় যোগ দেওয়ার আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের উপর লাঠি, বাঁশ, ইট নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে কুড়মি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম শহরে নবজোয়ার কর্মসূচির রোড শো ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নবজোয়ার’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। এদিন রোড শো শেষ করে লোধাশুলি হয়ে অভিষেকের কনভয় শালবনি যাওয়ার পথে ৫ নম্বর রাজ্য সড়কের দু’ধারে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কুড়মি আন্দোলনকারীরা। ঘটনার পরই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে শাসক দল। অভিষেক বলেন, এই বিক্ষোভের পিছনে কারা আছে, তা না জানালে প্রশাসন কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে। সেই ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন ‘কুস্তিগিরদের আটক লজ্জার’, টুইটে সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শাসকদলের অভিযোগ,তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের উদ্দেশ্যে ‘চোর চোর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর তৃণমূল নেতার কনভয়ের শেষে থাকা মন্ত্রী বীরবাহার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইটও। এতে মন্ত্রীর গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে গিয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি বীরবাহার গাড়ির চালককেও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, দলীয় কর্মীদেরও বাঁশ, লাঠি দিয়ে মারা হয়। এদিন কুড়মিদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে সিপিএম এবং বিজেপিকেও দায়ী করেছেন বীরবাহা। মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির পর আসরে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা বলেন।এমনকী মুখ্যমন্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেও গোটা বিষয়টি জানান তিনি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?