স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৫ জুন: ফুটবলকে অবশেষে আলবিদা জানিয়ে দিলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ।জ্লাতান বেশ কয়েকদিন আগেই দাবি করেছিলেন এখনও ফুটবল বুট তুলে রাখার সময় হয়নি। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে নিজেকে সুপারম্যানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তবে অকস্মাৎই ফুটবল বুটটি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ।

রবিবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে ইতালির লিগ সিরি-আতে ভেরোনার বিপক্ষে মাঠে নামে এসি মিলান। ইতিমধ্যে নাপোলি চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচটির সেই অর্থে কোনো গুরুত্ব ছিল না। এরকম একটি গুরুত্বহীন ম্যাচ গুরুত্ব হয়ে উঠেছিল ৪১ বছরের সুইডিশ তারকার জন্য। কারণ জল্পনা ছিল এটিই এসি মিলানের জার্সিতে ইব্রার শেষ ম্যাচ। কিন্তু সবাইকে হতবাক করে ম্যাচ শেষে জ্লাতান ঘোষণা করেন পেশাদারী ফুটবল জীবনেই এটি ছিল তাঁর শেষ ম্যাচ। ম্যাচ শেষে স্যান সিরোতে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দ্যেশ্যে আবেগঘন বার্তাও দেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছি, আপনাদের নয়’।
১৯৯৯ সালে সুইডিশ ক্লাব মালমো এফসি থেকে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ । গোল করার দক্ষতা, ফুটবল পায়ে সৃজনশীলতা, বল ছাড়া জায়গা দখল করা ইত্যাদি গুণের জন্য খুব কম সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ক্লাবগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ৪০ ম্যাচে মালমো এফসির হয়ে করেছেন ১৬ টি গোল। এরপর ডাচ ক্লাব আয়াখস তাঁকে সই করায়। যদিও প্রথমে বেশিরভাগ সময়ে তাঁকে ডাগআউটে বসিয়ে রাখতেন তৎকালীন আয়াখস কোচ। এরপর ২০০১ সালে প্রাক্তন ডাচ ফুটবলার রোনাল্ড কোম্যানকে কোচ করে আনে আয়াখস। তারপরই বদলে যায় ইব্রার ফুটবল জীবন। সেই মরশুমেই নিজের জাত চেনান তিনি। কোম্যান-ইব্রা জুটিতে ভর করে সেই মরশুমে ডাচ লিগ জয় করে আয়াখস। পরের মরশুমে ফরাসি ক্লাব লিওর বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্ব ফুটবলার নজরে আসেন। ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের সময় এই মরশুমে সুইডেনের জাতীয় দলে ডাক পান।

তিন মরশুম ডাচ ক্লাবে কাটিয়ে ২০০৪ সালে ইতালির নামী ক্লাব জুভেন্টাসে যোগ দেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ । সেখানে তখন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন ফরাসি তারকা ডেভিড ট্রেজেগুয়ে। কিন্তু ট্রেজেগুয়ের চোটের কারণে প্রথম দলে সুযোগ পেয়ে যান ইব্রা। সেই মরশুমে সিরি-আ জয় করে জুভেন্টাস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও পৌঁছয় দল। দুই মরশুমে ৭৪ ম্যাচ খেলে ৩৫ টি গোল করেন ইব্রা।
২০০৬ সালে জুভেন্টাস থেকে ইতালির আর এক নামী ক্লাব ইন্টার মিলানে সই করেন। তখন ইব্রা বলেছিলেন, তিনি ছোটবেলায় এই ক্লাবের সমর্থক ছিলেন। ইন্টারের হয়ে তিন মরশুমে করেন মোট ৫৭ টি গোল। এই সময়ে ইব্রা ও বালোতেলির জুটি খবরে আসে। ইন্টারের জার্সিতে পরপর তিন মরশুমে ইতালির লিগ সিরি-আ জিতেছেন। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ইতালি কাপ জিতেছেন দুই বার।
ইন্টারে তাঁর স্বপ্নের ফর্মের জন্য ২০০৯ সালে তাঁকে দলে নেয় স্পেনের জায়ান্ট বার্সেলোনা। তখন পেপ গুয়ার্দিওলার বার্সেলোনা বিশ্বের সব দলকে টেক্কা দিচ্ছে। সেই স্বপ্নের দলে খেলার সুযোগ পান এই সুইডিশ ফুটবলার। বার্সেলোনার জার্সিতে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ জিতেছেন স্প্যানিশ লিগ, ফিফার বিশ্ব ক্লাব কাপ, উয়েফা সুপার কাপ-সহ একাধিক ট্রফি। বার্সেলোনার হয়ে দুই মরশুমে করেছেন ১৬ টি গোল।
জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বার্সেলোনায় স্বপ্নের সময় কাটিয়ে যোগ দেন এসি মিলানে। যদিও কোনো ক্লাবেই দীর্ঘদিন খেলেননি বর্তমান ফুটবলের অন্যতম বর্ণময় এই ফুটবল চরিত্র। এরপর ফরাসি ক্লাব প্যারিস সান জা, ইংল্যান্ডের নামী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আমেরিকার লা গ্যালাক্সির হয়ে খেলে ফের যোগ দেন এসি মিলানে। রবিবার এই ক্লাবের হয়েই পেশাদারী ফুটবল জীবনের শেষ ম্যাচটি খেললেন ইব্রা। পেশাদার ফুটবল জীবনে ৯৮৮ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫৭৩ গোল, জিতেছেন ৩২টি ট্রফি। গোল করা ট্রফি জেতার পাশাপাশি নিজের বেলাগাম মন্তব্যের জন্যও বারবার সংবার শিরোনামে এসেছে তাঁর নাম। এহেন বর্ণাঢ্য ফুটবল অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার দ্বিতীয় পরিবার আমার সতীর্থ, কোচ এবং স্টাফদেরও। সুযোগ দেওয়ার জন্য ক্লাব পরিচালকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আর ভক্তদের জন্য রইল হৃদয় থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
দীর্ঘ ফুটবল জীবনে প্রায় সব দেশের লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও, জেতা হয়নি ইউরোপ সেরার খেতাব বা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। যদিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে জিতেছেন উয়েফা ইউরোপা লিগ খেতাব। এছাড়াও ব্যক্তিগত স্তরে শতাধিক পুরস্কার জিতলেও জেতা হয়নি ব্যালন ডি’অর। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ব্যালন ডি’অর বা বিশ্বকাপের মাপকাঠিতে ৪১ বছরের এই তারকার শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করতে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ, ফুটবলে এরকম অনেক চরিত্র এসেছে যারা সব পাওয়া না পাওয়ার উর্ধ্বে। সেই তালিকায় সবার উপরে দিকেই থাকবেন সুইডিশ ফুটবল তারকা।জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ।


More Stories
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর
FIFA Worldcup 2026 : কোরিয়ার চোরাগতিতে বিধ্বস্ত চেকিয়া