সময় কলকাতা ডেস্ক,১২ জুনঃ ক্রমশ চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’। ইতিমধ্যেই তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে পশ্চিম উপকূলে। মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বইতে শুরু করেছে ঝোড়ো হাওয়া। যার জেরে যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মুম্বই থেকে গুজরাতের বিভিন্ন শহরের বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। রবিবার থেকে মুম্বই করাচি বিমান পরিষেবাও বন্ধ। ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’-এর ধাক্কায় বেসামাল পাকিস্তানের বাণিজ্য ও গুজরাতের পোরবন্দর। ‘বিপর্যয়’ আছড়ে পড়ার আগেই অশান্ত আরব সাগর।
আরও পড়ুন ক্রমশ ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’, কোথায় এবং কখন ল্যান্ডফল করবে এই ঘূর্ণিঝড়?

ইতিমধ্যেই গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার দুপুরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাজির থাকার কথাও রয়েছে। এছাড়া বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং বাহিনীর কর্তারা থাকবেন। গুজরাতের কচ্ছ, দেবভূমি দ্বারকা, পোরবন্দর, জামনগর, রাজকোট, জুনাগড় এবং মোরবি সহ বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ রাজস্থানেও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দুই রাজ্যেরই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকী পর্যটকদেরও সৈকতে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৬ ঘন্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। ইতিমধ্যেই আরব সাগরের উপকূলবর্তী সমস্ত এলাকাতে সর্তকবার্তা জারি করা হয়েছে।মৌসম ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ‘বিপর্যয়’। পূর্ব ও মধ্য আরব সাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় ধীরে ধীরে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। জানা গিয়েছে,পাকিস্তানের করাচিতে ল্যান্ডফল হবে ‘বিপর্যয়’-র। পাকিস্তানের করাচিতে ল্যান্ডফল হলেও গুজরাটের কচ্ছ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
আরও পড়ুন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’

আগামী ১৫ জুন ‘বিপর্যয়’-এর ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। ল্যান্ডফলের সময় ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলেও হাওয়া অফিস সূত্রে খবর। ১৪ ও ১৫ জুন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে রাজস্থানের দক্ষিণ ও পশ্চিমভাগে। এছাড়াও যোধপুর ও উদয়পুরেও প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া সহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে শনিবারই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ঝোড়ো হওয়ার গতিবেগ পৌঁছতে পারে ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত, এমনটাই জানিয়েছে আই এম ডির দফতর। ঘূর্ণিঝড়ের জেরে ক্রমশ উত্তাল সমুদ্র, তাই ১৪ই জুন অবধি ভালসাদের তিথাল সমুদ্র সৈকত বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।


More Stories
টিম ইন্ডিয়ার আগুন ধুয়ে দিল ক্যানবেরার বৃষ্টি
বঙ্গে এল বর্ষা, অতি গভীর নিম্নচাপ এখন বাংলাদেশে
কয়েকদিনের ঝড়-বৃ্ষ্টিতে বেশ কিছুটা নেমেছে তাপমাত্রা। আপাতত এই পরিস্থিতিই থাকবে