সময় কলকাতা ডেস্ক,১৭ জুনঃ ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। শুক্রবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুরের কাওয়াকতা ও কাঙ্গভাই এলাকা। এদিন রাত থেকেই নতুন করে অশান্তি ছড়ায় গোটা রাজ্য জুড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষ,গুলি, আগুন লাগানোর খবর পাওয়া যায়। শনিবার ভোর পর্যন্ত চলে গুলি। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গিয়েছে।
Fiery situation in Manipur
ও রাজ্য় পুলিশ পূর্ব ইম্ফল জেলা জুড়ে দখলের পরই অশান্তি ছড়ায়। ইম্ফলের অ্য়াডভান্স হাসপাতালের কাছে অবস্থিত প্যালেস চত্বরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ র্যাফ নামানো হয়। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস ও রবার বুলেট। এর আগে মঙ্গলবার রাতে একবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুরের কাংপোকপি জেলার খামেনলোক গ্রাম। চলে গুলি। গুলিতে অন্তত ৯জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, আহত হয়েছেন অনেকেই। এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের। এদিকে এই ঘটনার পর থেকে খামেনলোক গ্রামের ৫ জন নিখোঁজ। অন্যদিকে, মণিপুরে নতুন করে অশান্তি শুরুর পরেই ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম জেলায় কারফিউর সময়সীমা কমিয়ে সকাল ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত,প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ অবস্থা মণিপুরের।এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের। আহতের সংখ্যা হাজারের বেশি। ঘরছাড়া কয়েক হাজার মানুষ। ক’দিন আগেই শান্তি ফেরাতে মণিপুর সফর করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপরেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে নতুন করে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর আগে গত ২ জুন মণিপুরের অশান্তিতে মদতের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয় মণিপুর পুলিশের ডিজিকে। মণিপুর পুলিশের ডিজি ছিলেন পি ডাইঙ্গেল। তাঁর জায়গায় দিল্লি থেকে পাঠানো হল রাজীব সিংহকে। তিনি আধা সেনা সিআরপিএফের দিল্লির সদর দফতরে আইজি হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। উত্তরভারতীয় এই অফিসার আদতে ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস। অর্থাৎ মণিপুরের নতুন ডিজি না রাজ্যের বাসিন্দা, না রাজ্য ক্যাডারের অফিসার। বর্তমান ডিজি ডাইঙ্গেলকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে, সংঘর্ষ-গুলিতে মৃত ৯

উল্লেখ্য,গত প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। সংঘর্ষের জেরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন রাজ্যের বহু বাসিন্দা। কার্ফু জারি রয়েছে একাধিক শহরে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যেই শান্তি ফেরাতে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৩ দিনের মণিপুর সফরে সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্য সরকারের সঙ্গে। সেখানে অমিত শাহ বলেছেন, এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য যে কোনও মূল্যে মণিপুরে ক্ষোভের আগুন নিভিয়ে শান্তি ফেরানো। প্রশাসন সেটাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এছাড়া মণিপুরে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফেরাতে এবং রাজ্যে শান্তি বিঘ্নিত করে এমন কোনও কার্যকলাপ কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পাশাপাশি মণিপুর হিংসায় নিহতদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে এই ক্ষতিপূরণ দেবে।

জানা গিয়েছে, নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়াও, পরিবারের একজনের চাকরির ব্যবস্থাও করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং ও অমিত শাহের বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অমিত শাহ মণিপুর পুলিশ, সিএপিএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছিলেন। এরপরই ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়াও সেই বৈঠকে পেট্রোল, এলপিজি গ্যাস, চাল এবং অন্যান্য খাদ্য পণ্যের জোগান যাতে যথেষ্ট পরিমাণে থাকে এবং দাম কমানো হয়, তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে,সেনাধ্যক্ষ অর্থাৎ চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান জানান, মণিপুরের পরিস্থিতি শান্ত হতে সময় লাগবে। সেনা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাছে। মণিপুরে বর্তমানে ১৪০ কলম অর্থাৎ ১৪ হাজার সেনা জওয়ান মোতায়েন আছে। এছাড়া অসম রাইফেলসের বেশ কিছু ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন আছে রাজ্যে।
আরও পড়ুন মণিপুরের অশান্তিতে মদত দেওয়ার অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হল মণিপুর পুলিশের ডিজিকে


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি