Home » রাজ্যপালের কাছে যাবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা

রাজ্যপালের কাছে যাবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৫ জুনঃ রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার জয়েনিং লেটারে এখনও সই করেননি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। যা নিয়ে গত তিন-চারদিন ধরে বিতর্ক চলছে। তার মাঝেই শোনা যায়, রাজীব সিনহাকে ফের রবিবার বিকেলে তলব করেছে রাজভবন। কিন্তু রবিবার রাজ্যপালের গলায় শোনা গেল উল্টো সুর। এদিন সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে তলব করেনি রাজভবন। তিনি নিজেই সময় চেয়েছিলেন। কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘোষণা করেন রাজীব সিনহা। তারপর মনোনয়ন থেকে স্কুটিনি, গোটা সময় ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। তার মাঝেই একবার রাজীব সিনহা, রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে আসেন। যদিও সেটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে রাজভবনের তরফে।রাজ্যে হিংসার ঘটনা বাড়ায় ফের রাজভবনে রাজীব সিনহাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন সিভি আনন্দ বোস। কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ত বলে সেই তলব এড়িয়ে যান নির্বাচন কমিশনার।’

প্রসঙ্গত,রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে কাকে নিয়োগ করা হবে তা রাজ্য মন্ত্রিসভার পরামর্শে স্থির করেন রাজ্যপাল। সেভাবেই রাজীব সিনহাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগপত্র দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। দায়িত্ব নিয়ে রাজীব সিনহা রাজ্যপালকে জয়েনিং রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সূত্রের খবর, রাজ্যপাল তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই অবস্থায় রবিবার বিকেলে রাজভবনে ফের তলব করা হল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে। স্বাভাবিকভাবেই, বাংলায় এই বিষয়টি কার্যত সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে দিল বলে মনে করছেন অনেকেই। গত শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে রাজভবনে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু রাজীব চিঠি দিয়ে তাঁর অপারগতার কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। সূত্রের খবর, সেই কারণ দেখিয়ে রাজভবন রাজীবের জয়েনিং রিপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন    রাজভবনে ফের তলব করা হল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে

এদিকে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে চেয়েছিল। সেই ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তবে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। মূলত হিংসার কথা মাথায় রেখেই পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাদের বক্তব্য ছিল, ২০১৮-র পঞ্চায়েত, একুশের ভোট পরবর্তী সময়ে বাংলায় ভয়ঙ্কর ছবি দেখা গিয়েছিল। সেসব মাথায় রেখেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য ছিল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার হলে তারাই করবে। এখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনওভাবেই তা করতে পারে না। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে কমিশনের মামলার শুনানি ছিল। শুনানি শেষে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যকেই মান্যতা দিল উচ্চ আদালত। জানিয়ে দিল, নির্বাচনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারবে না। যার ফলে স্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন।

About Post Author