সময় কলকাতা ডেস্ক,২৫ জুনঃ পঞ্চায়েতে ভোটে প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এবং ৫ দফা ভোটর দাবিতে রবিবার বৃষ্টিভেজা রাজপথে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। এদিন হাওড়া ও শিয়ালদা থেকে মহামিছিল বের করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিলে ডিসিআরসি কেন্দ্র থেকে তাঁরা বাড়ি ফিরে যাবেন, বুথে আর যাবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মঞ্চের সদস্যরা। ডিএ সংক্রান্ত দাবিদাওয়া নিয়ে বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই অবস্থান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সেই অবস্থান আজ ১৫০ দিনে পা দিয়েছে। আর সেই দিনেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিরাপত্তার দাবিতে পথে নামলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা।
আরও পড়ুন ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা বাঁকুড়ার ওন্দায়, প্রকাশ্যে নয়া তথ্য

তাঁদের সাফ কথা, যেহেতু এক দফায় ভোট হচ্ছে, তাই প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দিতে হবে। নয়তো ভোট করতে হবে ৫ দফায়। এমনকী ৮২২ কোম্পানি বাহিনী দিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব কি না সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বেই রাজ্যজুড়ে হিংসার সাক্ষী মানুষ। রাজনৈতিক সংঘর্ষে রাজ্যে প্রাণ গিয়েছে ৯ জনের। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁদের মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই রকম এক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভোটের ডিউটিতে যেতে আগেই অস্বীকার করেছিলেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। এবার ভোটের মুখে এবার ফের একবার সেই দাবি তুলে রাস্তায় নামলেন তাঁরা।

এদিকে,পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিতর্ক চলছে। আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে হাইকোর্টেও। মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। ভোটের পাশাপাশি, গণনা ও ফলপ্রকাশের পরও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার দাবিতে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যে বাহিনীর জওয়ানরা পৌঁছনো মাত্রই বিতর্ক-অভিযোগ এড়াতে জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠাল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, প্রত্যেক জেলাশাসকের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা চলবে না। ঠিকমতো ব্যবহার করতে হবে।
আরও পড়ুন গরমে ত্বকের জ্বালা ভাব কমাতে প্রতিনিয়ত বরফ ঘষছেন? অজান্তেই ত্বকের ক্ষতি করছেন না তো?

রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় যে ২২ কোম্পানি বাহিনী চাওয়া হয়েছিল, তার বেশিরভাগটাই শুক্রবারের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে। জলপাইগুড়ি, বাঁকুড়া, হুগলির একাধিক জায়গায় তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন। রাতে আরও বাহিনী রাজ্যে পা রাখতেই কমিশনের তরফে জেলাশাসকদের নির্দেশিকা পাঠানো হল। তাতে স্পষ্ট নির্দেশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যেন ব্যবহার করা হয়। রুট মার্চ, এরিয়া ডমিনেশনের কাজ করানো হোক। কোনওভাবেই যাতে জওয়ানরা বসে না থাকেন, তা দেখতে হবে জেলাশাসকদেরই। কলকাতা হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ায় আপাতত মোট ৮২২ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। এরপর রাজ্যে দফায় দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আসতে শুরু করেছেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি