সময় কলকাতা ডেস্ক,২৯ জুনঃ রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। তারই মধ্যে এবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ উপাচার্যদের নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিটি গঠন করলেন রাজ্যপাল তথা আচার্য সি ভি আনন্দ বোস। বুধবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ উপাচার্যের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যপাল। সেখানেই পাঁচটি কমিটি ও একটি সমন্বয় কেন্দ্র তৈরি করে দিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনওরকম দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখবে ‘অ্যান্টি কোরাপশন কমিটি’। এছাড়া ‘গ্লোবাল আউটরিচ কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা আদান-প্রদান বাড়ানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে। এর পাশাপাশি ‘অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গবেষণামূলক কাজ খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অধ্যাপকদের বিভিন্ন সেমিনারের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্য ‘ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে। শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার নিবিড় সংযোগ তৈরি করতে ‘ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া পার্টনারশিপ কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যাতে একত্রে কাজ করতে পারে, তার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘ইউনিভার্সিটি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার কমিটি’।

এদিকে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই ওই উপাচার্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। কার্যত সেকারণেই রাজ্যপাল নিযুক্ত উপাচার্যদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। বুধবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ। রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সনৎ কুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই রাজ্যপাল উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগের যে সময়সীমা তা অগ্রাহ্য করেই রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে পরমর্শ করার বিষয়টি আইনসভার অন্তর্ভুক্ত একটি আইন। সেই আইনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাজ্য এই উপাচার্যদের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বেআইনি হয়, তাহলে সরকার টাকা দেবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটের আগে অশান্তি নিয়ে কড়া বার্তা রাজ্যপালের

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে কল্যাণী, বর্ধমান, যাদবপুর,কাজি নজরুল সহ রাজ্যের ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তারপরই উপাচার্য হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নবনিযুক্ত। অনেকে আবার যোগ দেবেন কি না তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। সব মিলিয়ে শিক্ষার সার্বিক ক্ষতি হবে বলেই মত শিক্ষাবিদদের। আর এই নিয়োগের বিষয়টি নাকি সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শিক্ষামন্ত্রীর টুইট থেকেই স্পষ্ট, রাজ্যপালের সেই সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করছে রাজ্য। রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখেই করেছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। টুইটে তিনি বলেন, ‘এই নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। বেআইনি ভাবে নবনিযুক্ত মাননীয় উপাচার্যদের সকলকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সসম্মান অনুরোধ থাকবে যে, তাঁরা যেন এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন।’


More Stories
জেলা সংসদীয় সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি, নাম না করে কাকে আক্রমণ?
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়
আদালত চত্বরে প্রবল ক্ষোভের মুখে অরুণ ভৌমিক