Home » পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে শুভেন্দুকে মামলার অনুমতি হাইকোর্টের

পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে শুভেন্দুকে মামলার অনুমতি হাইকোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক,১১ জুলাই: পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ  হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন তাকে আদালত অবমাননার মামলা করার অনুমতি দিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তাঁর  অভিযোগ মঙ্গলবারও গণনা কেন্দ্রের বাইরে ব্যাপক বোমাবাজি হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। কার্যত সেকারণেই এদিন মামলার নথিতে ৬ হাজার বুথে অশান্তির কথা উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। এর পাশাপাশি শুভেন্দু জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় অনেকক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।নির্বাচনে আদালতের কোনো নির্দেশই মানা হয়নি।

যদিও শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচন চলাকালীনই একটি সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, আদালতের কোনো নির্দেশ মানেইনি রাজ্য। এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্পর্শকাতর বুথে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিন স্পর্শকাতর বুথগুলিতে জওয়ানদের দেখাই যায়নি সেভাবে। ওইদিন বৈঠকে ৬ হাজার বুথে অশান্তির খবরও উল্লেখ করেন বিরোধী দলনেতা। এর পাশাপাশি শুভেন্দু অভিযোগ করেন যে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিভিক ভলান্টিয়ারের ব্যবহারে মানা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের দিন সবকটি বুথেই সিভিক ভলান্টিয়ার ছিল।

উল্লেখ্য, শনিবার পঞ্চায়েত ভোট চলাকালীন দুপুরেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, নন্দীগ্রাম থেকে কমিশনের অফিসে আসছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বেন। সেই মতোই শনিবার সন্ধ্যায় ভোট হিংসার প্রতীকী হিসেবে হাতে কালো ব্যান্ড পরে নির্বাচন কমিশনের অফিস পৌঁছান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দফতরের একতলায় কমিশনার রাজীব সিনহার ঘরে বেশ কিছুক্ষণ চিৎকার চেঁচামেচির পর কমিশনের মূল ফটকে তালা মেরে দেন শুভেন্দু। এদিন দফতরে ঢুকেই স্লোগান তোলেন শুভেন্দুরা। প্রথমে কমিশনের অফিসের দোতলায় উঠে যান বিরোধী দলনেতা ও তাঁর সঙ্গীরা। সেখানে গিয়ে কনফারেন্স রুমের দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন। পরে পুলিশ তাঁদের জানান, রাজীব সিনহার ঘর এক তলায়।

আরও পড়ুন  মিলল না রক্ষকবচ! নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলেন অভিষেক

এরপরেই মেজাজ হারান শুভেন্দু। চিৎকার করে বলতে থাকেন, আগে থেকে বলেননি কেন? ইয়ার্কি মারছেন? তুমুল বাদানুবাদের পর শুভেন্দুরা একতলায় রাজীব সিনহার ঘরে এসে পৌঁছন। ঘরের ভিতর থেকে তুমুল চিৎকার-চেঁচামেচি ভেসে আসছিল বলে সূত্রের খবর। তারপরেই ঘর থেকে বেরিয়ে কমিশনের মেন গেটে তালা মেরে দেন শুভেন্দু। সেই নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়। যদিও তালা লাগানোর এক মিনিটের মধ্যেই সেই তালা খুলে ফেলেছে পুলিশ, এমনটাই সূত্রের খবর। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভোটের জন্য হাই কোর্ট যা শর্ত দিয়েছিল, তার কেশ কিছু মানেনি কমিশন। আর সেই কারণেই এই বেলাগাম হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের কালো দিন’ বলেও উল্লেখ করেন বিরোধী দলনেতা।

About Post Author