সময় কলকাতা ডেস্ক,১৬ জুলাই : অঝোর ধারায় হোক আর ঝিরিঝিরি করে বৃষ্টি হোক – চা হয়ে ওঠে সঙ্গী। নিঃসঙ্গতায় অথবা আড্ডার আসলে চা এনে দেয় উৎসবের সৌরভ। বৃষ্টির সঙ্গে উৎসবের আমেজ আনা সুগন্ধি গরম চায়ের জুড়ি মেলা ভার। অথচ বৃষ্টি বাদ সাধছে চা-উৎপাদনে। চা উৎপাদনে আক্রমণ হানছে বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক খামখেয়ালিপনা ।প্রবল ভাবে ব্যাহত অতি বৃষ্টির জন্য চা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে । পাশাপাশি, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন আগেই প্রভাব ফেলেছিল চা বাগানগুলিতে। এবার বৃষ্টর কারণে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে। প্রাকৃতিক খামখেয়ালিপনা প্রবল মাত্রায় বাদ সাধছে চা-উৎপাদনে।

ক্যামেলিয়া সিনেনসিস বা চা গাছের পাতা, মুকুল থেকে তৈরি হয় চা। দশম শতাব্দী থেকে চায়ের এই রমরমা। চীনের পরেই সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী দেশ ভারত। গাছের পাতা আর মুকুল থেকে তেরি সুগন্ধি চা উৎপাদনের গোড়ায় আসছে আঘাত । চা প্রেমীদের এই আসরে খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে প্রাকৃতিক খামখেয়ালিপনা।বিশ্ব উষ্ণায়ন, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বিগত কয়েক বছর থেকেই বদলে গিয়েছে হিমালয়ের পাদদেশের পরিবেশ। যার সরাসরি প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে পাহাড় থেকে সমতলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে থাকা চা বাগানের ওপর। উষ্ণায়নের সঙ্গে উৎপাদন ব্যাহতকারী কার্যক্রম হিসেবে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। ফলে কখনও তীব্র গরম, আবার কখনও পুরো বর্ষার বৃষ্টি মাত্র তিন মাসেই ঝরে পড়ছে।

প্রাকৃতিক খামখেয়ালিপনার কুফল পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের চা বাগানগুলিতে। জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়া ঝাড় চা বাগান সহ ডুয়ার্সের চা বলয়ে বদলে যাওয়া প্রকৃতির এই কুফল ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। ডেঙ্গুয়া ঝাড় চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার তথা ডুয়ার্স ব্রাঞ্চ অফ ইন্ডিয়ান টি প্লান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সচিব জীবন চন্দ্র পান্ডে বলেন, চা উদ্যোগ পুরোপুরি প্রকৃতি নির্ভর একটি শিল্প, তবে প্রকৃতির পরিবর্তন বর্তমানে আমাদের অনেকটাই সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে প্রতি বছর। সবমিলিয়ে, প্রকৃতির খেয়ালখুশি মর্জি আর খামখেয়ালিপনায় জেরবার চা-চাষ।
আরও পড়ুন : বীর হনুমান সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ,বিদেশের মাটিতে ঘোষণা বিদেশমন্ত্রীর


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?