সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জুলাই : সুভাষ ভৌমিক নেই কিন্তু জাকার্তায় আসিয়ান কাপ জয়ে লাল হলুদ জার্সি পরে কুড়ি বছর আগে মাঠে নামা তার সৈনিকরা আজও সবাই রয়েছেন। প্রথম একাদশে না থাকলেও দলে থাকা সৈনিকদের মধ্যে ছিলেন কুলুথুঙ্গন, যিনি ইহজগতে নেই ।আর নেই সেই টিমের ম্যানেজার স্বপন বল। ইস্টবেঙ্গলের আসিয়ান কাপ জয়ের কুড়ি বছর পূর্ণ হল বুধবার। ইস্টবেঙ্গলের সেদিনের ফুটবলাররা আছেন কেউ দেশে, কেউ বিদেশে। কেউ রাজ্যে, কেউ ভিন রাজ্যে। অথচ তাঁরা এদিন সবাই একজোট হয়ে জাকার্তায় একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জয় করে এনেছিলেন। ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট হলেও বিভিন্ন দিক থেকে ইস্টবেঙ্গলের জয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গেলোরান সেনায়েন স্টেডিয়ামে যেখানে ভারত ১৯৬২ সালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ঐতিহাসিক ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়াডে সোনা জিতেছিল সেই মাঠেই আসিয়ান কাপ জিতে ইতিহাস লেখে ইস্টবেঙ্গল।

আসিয়ান কাপ খেলতে গিয়ে গ্রুপ লীগের খেলায় বেক তেরো সাসানার কাছে এক গোলে হেরে যায় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেবার হেরেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আর সেই টুর্নামেন্টে প্রত্যাবর্তনের নিরিখে ও আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নিরিখে ২৬ জুলাই,২০০৩ তারিখটি ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার দুদিন আগে সেমিফাইনাল ম্যাচে পেট্রোকিমিয়া পুত্রাকে সাডেন ডেথে ৭-৬ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।সেদিন ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল থাইল্যান্ডের বেক তেরো সাসানাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দেয়।মাইক ওকোরো ২৮ মিনিটে গোল করে ইস্টবেঙ্গল কে ১-০ গোলে এগিয়ে দেওয়ার পরে ৪৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান বাড়ান বাইচুং ভুটিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ১৩ মিনিটে একটি গোল শোধ করে সাসানা। কিন্তু এর দশ মিনিটের মধ্যে নিজের তুলনামূলক দুর্বল ডান পায়ের শটে গোল করে সাসানা-র পেরেকে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন আলভিটো ডি কুনহা। সেবার টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন বাইচুং ভুটিয়া।সেরা গোলরক্ষকের সম্মান পেয়েছিলেন সন্দীপ নন্দী। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক ও ফুটবল প্রেমী মানুষ অনেক কিছু ভুলে গিয়েছেন কিন্তু মনে থেকে গিয়েছে ফাইনালে বাঙালি ফুটবলার ষষ্ঠী দুলের টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় চাইম্যানকে বোতলবন্দি করে রাখার কাহিনী। কিছু মানুষ মনে রেখেছেন টুর্নামেন্টে মাঠের মধ্যে চোটে আহত হয়ে পড়া দেবজিতকে ডগলাসের সুস্থ করার কাহিনী।

ফাইনাল ম্যাচে ৫-৩-২ ফর্মেশনে ডিফেন্স লাইনে মুথাইয়া সুরেশ ও দীপক মন্ডলকে স্টপার ব্যাক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক, তাদের ঠিক ওপরে ছিলেন সুলে মুসা, দুই সাইড ব্যাক ছিলেন সুর কুমার ও ষষ্ঠী। মাঝ মাঠে প্রথম একাদশে সেদিন ছিলেন ডগলাস,আলভিটো বিজেন। আর ফরোয়ার্ড লাইনে ছিলেন মাইক ওকোরো এবং বাইচুং ভুটিয়া।লাস্ট ডিফেন্স অর্থাৎ গোলরক্ষক ছিলেন সন্দীপ নন্দী।অধিনায়ক সুলে মুসা সহ তিন বিদেশি ডগলাস, ওকোরো এবং বাংলা সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলাররা তাঁদের ওপরে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে লালহলুদের হয়ে সুনাম অর্জন করেছিলেন,বিদেশের মাটিতে উজ্জ্বল করেছিলেন ভারতীয় ফুটবলের নাম।

কুড়ি বছরে ফুটবল অনেক পরিবর্তন হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে – কিন্তু একুশ শতকের একদম গোড়ায় ভারতীয় ফুটবলকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের ফ্রেমে তুলে ধরেছিল ইস্টবেঙ্গল ২৬ জুলাই তারিখটিতে। ২৬ জুলাই ইস্টবেঙ্গল তথা ভারতীয় ফুটবলের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলস্টোন।।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার