Home » মণিপুর ইস্যুতে কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদদের

মণিপুর ইস্যুতে কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদদের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ জুলাইঃ মণিপুরে হিংসা-অশান্তির ঘটনায় উত্তাল বাদল অধিবেশন। নিত্যদিনই সংসদের দুই কক্ষে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধী দলের সাংসদরা। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়ে মণিপুর ইস্যুতে এককাট্টা বিরোধীরা। এবার মণিপুর ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদে সংসদে কালো পোশাক পরে আসলেন ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা। প্রতিটি বিরোধী সংসদীয় দলের নেতারা তাঁদের দলের সমস্ত সাংসদদের এই কালো পোশাক পরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। যে সমস্ত সাংসদের কাছে কালো পোশাক থাকবে না, তাঁদের কালো আর্ম ব্যান্ড বেঁধে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। মণিপুর ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই কালো পতাকার বদলে কালো পোশাক পরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের অফিসে বৈঠকে বসেন বিরোধী দলনেতারা।

এদিকে, বুধবারই বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হয় লোকসভায়। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বুধবার ২৬টি বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’র তরফে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন। স্পিকার সেই আলোচনার অনুমোদন দেন। স্পিকার জানিয়েছেন তিনি আলোচনার তারিখ পরে জানিয়ে দেবেন। সংসদ সূত্রে খবর, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি আলাদা করে একটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, নিয়ম হল ৫০ জন সাংসদ মিলে প্রস্তাব জমা করলে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ১০ দিনের মধ্যে স্পিকারকে জানাতে হবে আলোচনার তারিখ। রাজনৈতিক মহলের মতে, যে কারণে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে ঠিক একই কৌশল মাথায় রেখে সরকারও তাতে আলোচনায় সাড়া দিচ্ছে। বিরোধীরা চেয়েছিল সরকার যাতে মনিপুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে একতরফা ভাবে ৩১টি বিল পাস করিয়ে নিতে না পারে। অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনা হলে সংসদের নেতা তথা সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দেওয়াটা সংসদীয় রীতি। ফলে নরেন্দ্র মোদি মণিপুর নিয়ে নীরব থাকলেও অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনার উপর জবাবে ভাষণে তাঁকে উত্তর পূর্বের ওই রাজ্যটির বিষয়ে বলতে হতে পারে। যদিও একথাও ঠিক প্রধানমন্ত্রী চাইলে জবাবী ভাষণেও মণিপুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পারেন।

আরও পড়ুন    মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’র অনাস্থা প্রস্তাবে অনুমোদন স্পিকারের

প্রসঙ্গত, বুধবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিরলার কাছে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করে বিরোধীরা। এদিন বিরোধীরা উত্তর-পূর্বের অশান্ত রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছে। যা পত্র পাঠ খারিজ করে দিয়েছে সরকার পক্ষ। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা মনে করছে অনাস্থা প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে সরকারের বিরুদ্ধে। কারণ তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের জবাবি ভাষণ এড়ানো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কঠিন। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে সংসদে না এসে অন্য কোনও নেতাকে এগিয়ে দেন তা হলেও সরকারের মুখ পুড়বে। বিরোধী জোট মনে করছে মণিপুর নিয়ে অচলাবস্থায় সুযোগ নিয়ে সরকার ৩১টি বিল পাস করিয়ে নিতে চাইছে। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব এনে তারা সরকারের মুখোশ খুলে দিতে পারবে। বিরোধীদের হাতে এই অস্ত্র রয়েছে। সূত্রের খবর বুধবার সকাল বাদল অধিবেশনের শুরুতেই লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনার নোটিশ পেশ করেন লোকসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি নেতা গৌরব গগৈ। ইতিমধ্যেই স্পিকারের অফিসে সেই নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কংগ্রেস নেতা মনিকাম ঠাকুর। এদিন এই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে ৫০ জনের বেশি বিরোধী সাংসদ সাক্ষর করেছেন বলেই জানা গিয়েছে। যদিও বুধবার এই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন লোকসভা স্পিকার। স্পিকার এই মর্মে গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখে তবেই আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করবেন।

About Post Author