Home » অশান্ত মণিপুরে গেলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধি দল,রাজ্যপালের সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা

অশান্ত মণিপুরে গেলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধি দল,রাজ্যপালের সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ জুলাইঃ  নির্ধারিত সূচি মেনেই শনিবার সকালে অশান্ত মণিপুরে গেলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধি দল। জানা গিয়েছে, এদিন দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ১৬টি দলের মোট ২০ জন প্রতিনিধি মণিপুর রওনা দেন। ইম্ফলে পৌঁছে কপ্টারে চেপে প্রথমেই চুড়াচাঁদপুর যাওয়ার কথা তাঁদের। সূত্রের খবর, এই প্রতিনিধি দল দুটি রিলিফ ক্যাম্পেও যাবে। সেখানে স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। সারাদিন বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করার পর এদিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করবে সংসদীয় প্রতিনিধি দল। সূত্রের খবর, রবিবার তাঁরা সাক্ষাৎ করতে পারেন মণিপুরের রাজ্যপাল অনুসূয়া উইকের সঙ্গেও। কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বে যাচ্ছে প্রতিনিধি দলটি। তৃণমূলের তরফে রয়েছেন,রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব, আরডেজির মনোজ কুমার, আপের সুশীল গুপ্তা, কংগ্রেসের গৌরব গগৈ, ডিএমকের কানিমোঝি-সহ জোট শরিকের ২০ জন। এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও চাপ বাড়ল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।


বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই মণিপুর ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংসদ। নিত্যদিনই সংসদের দুই কক্ষে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধী দলের সাংসদরা। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়ে মণিপুর ইস্যুতে এককাট্টা বিরোধীরা। এমনকী মণিপুর ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদে সংসদে কালো পোশাক পরে আসেন ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা। প্রতিটি বিরোধী সংসদীয় দলের নেতারা তাঁদের দলের সমস্ত সাংসদদের এই কালো পোশাক পরে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মণিপুর ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই কালো পতাকার বদলে কালো পোশাক পরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন   জাতিদাঙ্গার কারণে ফের গুলি চলল উত্তপ্ত মণিপুরে

এদিকে, গত বুধবারই বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হয় লোকসভায়। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বুধবার ২৬টি বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’র তরফে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন। স্পিকার সেই আলোচনার অনুমোদন দেন। স্পিকার জানিয়েছেন তিনি আলোচনার তারিখ পরে জানিয়ে দেবেন। সংসদ সূত্রে খবর, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি আলাদা করে একটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, নিয়ম হল ৫০ জন সাংসদ মিলে প্রস্তাব জমা করলে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ১০ দিনের মধ্যে স্পিকারকে জানাতে হবে আলোচনার তারিখ। রাজনৈতিক মহলের মতে, যে কারণে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে ঠিক একই কৌশল মাথায় রেখে সরকারও তাতে আলোচনায় সাড়া দিচ্ছে। বিরোধীরা চেয়েছিল সরকার যাতে মনিপুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে একতরফা ভাবে ৩১টি বিল পাস করিয়ে নিতে না পারে। অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনা হলে সংসদের নেতা তথা সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দেওয়াটা সংসদীয় রীতি। ফলে নরেন্দ্র মোদি মণিপুর নিয়ে নীরব থাকলেও অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনার উপর জবাবে ভাষণে তাঁকে উত্তর পূর্বের ওই রাজ্যটির বিষয়ে বলতে হতে পারে। যদিও একথাও ঠিক প্রধানমন্ত্রী চাইলে জবাবী ভাষণেও মণিপুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পারেন।

About Post Author