সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ আগস্ট: দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে কলকাতা পুলিশের আওতায় এল ভাঙড় থানা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জারি করা হল বিজ্ঞপ্তি। পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের যে কয়েকটি এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল, ভাঙড় তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। ভাঙড়কে কলকাতা পুলিশের আওতায় আনার জন্য আগেই নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও শুরু করে দেয় কলকাতা পুলিশ। এজন্য আলাদা ডিভিশন তৈরিরও পরামর্শও দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর নির্দেশ মতনই স্বাধীনতা দিবসের আগেই ভাঙড় ও কলকাতা লেদার কমপ্লেক্সের তিনটি থানা ভেঙে নতুন নয়টি থানা তৈরি করছে লালবাজার। রবিবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পাশাপাশি এই ন’টি থানা নিয়ে যে নতুন ডিভিশন চালু হচ্ছে, তার মানচিত্রও প্রকাশ করেছে কলকাতা পুলিশ।

লালাবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই ডিভিশনটির প্রস্তাবিত নাম ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন ডিভিশন। নতুন নয়টি থানা হল, কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স, হাতিশালা, পোলেরহাট, উত্তর কাশীপুর, বিজয়গঞ্জ বাজার, নারায়ণপুর, ভাঙড়, বোদরা ও চন্দনেশ্বর। এর মধ্যে কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার আওতায় থাকছে ১৩টি মৌজা, হাতিশালা থানার আওতায় ১৯টি, পোলেরহাট থানার আওতায় ১০টি, উত্তর কাশীপুর থানার আওতায় ১৫টি, বিজয়গঞ্জ বাজার থানার আওতায় ১১টি, নারায়ণপুর থানার আওতায় ১৭টি, ভাঙড় থানার আওতায় ১৯টি, বোদরা থানার আওতায় ২০টি ও চন্দনেশ্বর থানার আওতায় ২০টি মৌজা। এবার কলকাতা পুলিশের আওতায় এল ওই ১৪৪টি মৌজা। ওই মৌজাগুলিকে ভেঙেই তৈরি হয়েছে নতুন ন’টি থানা। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই কলকাতা পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে একটি নতুন ডিভিশন তৈরি করা হবে, যেখানে এই ৯টি নতুন থানাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রস্তাবটি রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলেই নতুন থানা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আরও পড়ুন ভাঙড়ে অশান্তির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ চাইল কলকাতা হাইকোর্ট

প্রসংত,পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পর থেকেই বারে বারে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। অশান্তির জেরে ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। গত ১১ জুলাই গণনার দিনও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই আইএসএফ কর্মী সহ তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে দু’দফায় আরও চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভাঙড়ের ঘটনার জেরে নানান প্রশ্নের মুখে পড়েছিল রাজ্যের আইন শৃঙ্খলাও। কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আপাতত নয়টি থানার মধ্যে তিনটি থানার নিজস্ব ভবন রয়েছে। বাকি থানার বাড়িগুলির জন্য জায়গা দেখাশোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও ডিভিশনের সদর অফিসের জন্য গোটা একটি বাড়ি নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে লালবাজার। সব থানায় ওসি, অতিরিক্ত ওসি, দশজন করে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। এছাড়াও ডিভিশনে দু’জন ডিসি পদমর্যাদার পুলিশকর্তার অধীনে থাকতে পারবেন চার-পাঁচ জন এসিপি। থানা পিছু অন্তত পাঁচটি করে গাড়ি ও যথেষ্ট বাইক দেওয়া হবে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি