Home » মণিপুরে হিংসার জন্য কংগ্রেসকেই দায়ী করলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা

মণিপুরে হিংসার জন্য কংগ্রেসকেই দায়ী করলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ আগস্ট: প্রায় চার মাসেরও বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। মনিপুরে লাগাতার অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের বাদল অধিবেশনে মণিপুর ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত সরব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এহেন পরিস্থিতিতে এবার মণিপুরে হিংসার জন্য কংগ্রেসকেই দুষলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর মতে, উত্তর পূর্বের রাজ্য মণিপুরের অশান্তির জন্য দায়ী বিগত কংগ্রেস সরকারের অপশাসন। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মঙ্গলবার হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘এতদিন পর মণিপুরের হিংসা নিয়ে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সরকারের ভুলনীতির কারণে মণিপুরে লাগাতার অশান্তি চলছে। এমনকী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। মণিপুরে হিংসার যে আগুন জ্বলছে, তার জন্য একমাত্র দায়ী কংগ্রেস।’ এ প্রসঙ্গে এদিন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, মণিপুরের অশান্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতার কারণেই বিরোধী ইন্ডিয়া জোট অনাস্থা প্রস্তাব আনতে বাধ্য হয়েছে।

ইতিমধ্যেই মণিপুর ইস্যুতে রাজ্যের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। মণিপুর সরকারের হয়ে আদালতে হাজির ছিলেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এদিন বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে সলিসিটর জেনারেলকে বলেন,‘মণিপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬৫২৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতার হয়েছে ২৫২ জন? ওই রাজ্যে পুলিশ কী করছে? পুলিশ কি আদৌ তদন্ত করছে? যদিও এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কট রমানি আদালতকে জানান, ‘মণিপুরের হিংসায় ১১টি ক্ষেত্রে নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মধ্যে সম্প্রতি মণিপুরে ২ মহিলাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সিবিআই। কিন্তু বাকি ১১টি ঘটনার সিবিআই তদন্তের প্রস্তাব নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি সুপ্রিম কোর্ট। ওই ১১টি ঘটনাকেও সিবিআই তদন্তের আওতায় আনা হোক।’

আরও পড়ুন    পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে অশান্তি রুখতে ভাঙড়ে ফের ১৪৪ ধারা জারি

প্রসঙ্গত,গত সপ্তাহেই অশান্ত মণিপুরে যান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১৬টি দলের মোট ২০ জন প্রতিনিধি। মণিপুর পৌঁছেই তাঁরা দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। একদল পাহাড়ি অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কুকিদের সঙ্গে দেখা করে। অন্যদলটি উপত্যকায় মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করে। উপত্যকার ইম্ফল থেকে পাহাড়ের চূড়াচাঁদপুর– দুই প্রতিনিধিদল সর্বত্র গিয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে মহিলা ও শিশুদের করুণ পরিস্থিতি দেখে স্তম্ভিত তাঁরা। গত রবিবার সকালে মণিপুরের রাজ্যপালের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিদল দেখা করেছে। বিরোধীদের দাবি, গত ৮৯ দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মণিপুর নিয়ে মৌনব্রত নিয়েছেন, তাতেই বোঝা যায়, মণিপুর নিয়ে তাঁর মানসিকতা কী। এদিন রাজ্যপাল অনুসূয়া উইকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর হাতে মণিপুর ইস্যুতে স্মারকলিপি তুলে দেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা। মণিপুরের রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ২১ জন সাংসদ। তাঁদের জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে রীতিমতো তীব্র ভাষায় বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানানো হয় বলেই সূত্রের খবর।

About Post Author