সানি রায়,সময় কলকাতা , ১১ আগস্ট : একমাসও বাকি নেই ধূপগুড়ি উপনির্বাচনের । ভোটের আগেই শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। ধূপগুড়িতে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কলহ বিবাদ এবার পার্টি অফিস থেকে এসে পড়েছে রাস্তায়। বৃহস্পতিবার রাতে ধূপগুড়িতে জাতীয় সড়কের উপরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী দীর্ঘ সময় ধরে হাতাহাতি করল। প্রার্থীপদ নিয়ে ধূপগুড়ির একটি লজের মধ্যে শুরু হওয়া দুই গোষ্ঠীর কোন্দল লজের মধ্যে আটকে থাকে নি। প্রথমে ধূপগুড়ি বাজারে বড় আকার নেয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। অবশেষে শুম্ভ-নিশুম্ভ যুদ্ধ বেধে যায় এবং দুই গোষ্ঠীর মারামারি দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে জাতীয় সড়কের ওপর, যার ফলে অবরুদ্ধ হয়ে যায় জাতীয় সড়ক, দেখা দেয় যানজট।

শিয়রে ধূপগুড়ি বিধানসভার উপনির্বাচন আর প্রার্থী বাছাই অর্থাৎ প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে তৃণমূলের দলীয় স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল মতানৈক্য। একাধিক শিবির ও একাধিক প্রার্থী শেষ মুহূর্তে বিধায়ক পদের লড়াইয়ের জন্য দলীয় ছাড়পত্র পেতে উদগ্রীব থেকেছে । দুটি আলাদা আলাদা গোষ্ঠী বেশ কিছুদিন আগেই নিজের মত করে গুটি সাজাতে আরম্ভ করেছিল। বিষয় আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে ভোট গ্রহণের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার বেশ কয়েকদিন আগে থেকে। জুলাই মাসের ২৫ তারিখে ধূপগুড়ির বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায় কলকাতায় বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে প্রয়াত হন।কার্যত তখন থেকেই তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী দলীয় প্রার্থীপদ পেতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই দলের মধ্যেই উত্তেজনার পারদ বাড়ছে। ৫ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ি উপনির্বাচন। আগামী ১৭ তারিখ ধূপগুড়ি উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে ভোটের প্রচারে নামার আগেই তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে কলহ বিবাদে মেতে ওঠার আশঙ্কা ছিল। বৃহস্পতিবার রাতেই সম্ভবত তার একপ্রস্থ বহিঃপ্রকাশ হল। ধূপগুড়িতে নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়ালেন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সমর্থকরা।

বৃহস্পতিবার রাতেই ধূপগুড়িতে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে , তৃণমূলেরই আর এক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে জেলা সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে হামলা চালানোর। দীর্ঘ সময় ধরে চলে মারামারি।মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কের ওপর দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হওয়ায় বেশ কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে যায় জাতীয় সড়ক। এই ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে দেখা দেয় যানজট।
আরও পড়ুন : নিজেকে বাঁচাতে পুলিশের ওপর হিংস্র পিটবুল লেলিয়ে দিলেন মার্কিন মহিলা
গুলিগোলা না চললেও প্রবল সংঘর্ষের চিত্র ধরা পড়েছে যা অভূতপূর্বও বটে। অভিযোগ করা হচ্ছে জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিংয়ের উপর ছুরি নিয়ে পর্যন্ত হামলা চালায় তৃণমূলের এক গোষ্ঠী। জানা গিয়েছে ধূপগুড়ি পৌর প্রশাসক মন্ডলীর ভাইস চেয়ারম্যান তথা জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং ও পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য অরূপ দে, এই দুই নেতার দুই গোষ্ঠীর মধ্যেই বাঁধে গন্ডগোল। যদিও ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে, শেষে ছেঁড়া জামা পরে রণক্লান্ত রাজেশ কুমার সিং এই গোলমালকে নিছক ভুলবোঝাবুঝি বলেই আখ্যা দিয়েছেন। তবুও শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়নি। অনেকেই মারামারিতে কমবেশি আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন :নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের নজরে কোচবিহারের আরও ৩০ জন শিক্ষক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত প্রার্থী বাছাইকে নিয়ে। এক বেসরকারি লজে আইপ্যাকের কর্মীদের উপস্থিতিতেই চলছিল দলীয় বৈঠক। সেখানে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী আইএনটিটিইউসি ব্লক সভাপতি এর ওপরে হামলা করা হয় সেই অভিযোগ উঠে আসে। এরপরই সেই গন্ডগোল এসে পৌঁছায় ধূপগুড়ি বাজারে। এরপর জাতীয় সড়কের ওপরে দুই পক্ষের মারপিট চলতে থাকে। এসময় ধূপগুড়ির পৌর প্রশাসক মন্ডলীর ভাইস চেয়ারম্যান তথা জলপাইগুড়ি তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং এর বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় গোটা ধূপগুড়ি থানার পুলিশ নামে রাস্তায়। বৃহস্পতিবার ধূপগুড়িতে রাতের মত ঝামেলা মিটলেও রাজেশ- অরূপ সংঘর্ষে কোথাকার জল কোথায় গড়ায় সেটাই এখন দেখার। ধূপগুড়ির ভোট ও স্থানীয় রাজনীতি সম্পর্কে তথ্যভিজ্ঞ মহলের ধারণা, ভোটের আগে গৃহযুদ্ধ তৃণমূলের মুখ পোড়াচ্ছে এবং ভোটে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রভাব পড়বে।।
আরও পড়ুন :টেস্ট ক্রিকেটে অ্যালুমিনিয়াম ব্যাট ব্যবহার করার আশ্চর্য ঘটনা


More Stories
অভিষেকের পরে কল্যাণ
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের